জীবিকার তাগিদে কাজ করেন এসএস পাইপ মিস্ত্রি হিসেবে। আর অবসর সময়ে মেতে ওঠেন সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন পূরণের সাধনায়। বোনের পুরোনো বোরকাকে কৃষের পোশাকে রূপ দিয়ে নানা কসরত ও স্টান্ট দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন সিরাজগঞ্জের মোহাম্মদ আল মামুন। স্থানীয়দের কাছে তিনি এখন ‘বাংলার কৃষ’ নামে পরিচিত।
মোহাম্মদ আল মামুন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বনবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। জীবিকার প্রয়োজনে দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে লোহা ও স্টিলের কাজ করে। তবে কাজের ফাঁকে কিংবা অবসর সময়ে তার ব্যস্ততা ভিন্ন। বলিউডের জনপ্রিয় সুপারহিরো কৃষের মতো কিছু করে দেখানোর স্বপ্ন নিয়ে প্রায় আট থেকে দশ বছর ধরে অনুশীলন করে যাচ্ছেন তিনি।
মামুনের এই স্বপ্নযাত্রার শুরু ডিগবাজির ভিডিও তৈরি করার মধ্য দিয়ে। নিজের কসরতের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলেও শুরুতে তেমন সাড়া পাননি। পরে ব্যতিক্রমী কিছু করার চিন্তা থেকে কৃষের আদলে নিজেকে উপস্থাপনের পরিকল্পনা করেন। কিন্তু দামি পোশাক ও উন্নত সরঞ্জাম কেনার সামর্থ্য না থাকায় বোনের পুরোনো বোরকা দিয়েই তৈরি করেন সুপারহিরোর পোশাক।
এরপর থেকে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও দালানকোঠায় নানা ধরনের স্টান্ট দেখানোর চেষ্টা করেন মামুন। তার ব্যতিক্রমী কসরত দেখতে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। কেউ বিস্ময় নিয়ে দেখেন, আবার কেউ মুঠোফোনে ধারণ করেন তার কর্মকাণ্ড। একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তার স্টান্টের ভিডিও। বাড়তে থাকে পরিচিতি। স্থানীয়ভাবে অনেকেই তাকে ডাকতে শুরু করেন ‘বাংলার কৃষ’ নামে।
সীমিত সামর্থ্য ও নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটে চলেছেন মামুন। তার লক্ষ্য শুধু কৃষের পোশাক পরে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা নয়; নিজের প্রতিভাকে আরও বিকশিত করে একদিন চলচ্চিত্রে কাজ করার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে নিজের প্রতিভাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চান এই তরুণ। জীবিকার পাশাপাশি সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন বুকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছেন ‘বাংলার কৃষ’ মোহাম্মদ আল মামুন।





