Monday, 26 October 2026
শিরোনাম
কুমারখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে অ্যাড. জাকারিয়া মিলন প্রবাসীর স্ত্রীর ভিডিও ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার বিয়ের দাবিতে বিচারকের বাড়িতে শিক্ষিকার অনশন! বিধবা নারীর সঙ্গে প্রেম: মামাকে রাস্তা থেকে সরাতে ডেকে নিয়ে খুন করল ভাগিনা! সেনাবাহিনীর পোশাকে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণ-টাকা লুট টঙ্গীর সেই মাদ্রাসা শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর মেলান্দহে ভূমি অফিসের নিলামকৃত গাছ কাটা নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন বিতর্কের মুখে ষষ্ঠ শ্রেণির বই থেকে বাদ ‘দাঁড়িপাল্লা’, জ্ঞানের পিরামিডে থাকছে না কোনো আইকন প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা আবারও যমুনা সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ
জেলার খবর

দুস্থদের দুম্বার মাংস ভাগাভাগি করে নিলেন জনপ্রতিনিধিরা

• • পঠিত 9 বার
শেয়ার করুন:
দুস্থদের দুম্বার মাংস ভাগাভাগি করে নিলেন জনপ্রতিনিধিরা

জামালপুরে দুস্থদের মাঝে বিতরণের দুম্বার মাংস জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভাগ করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে জেলা জুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

 

গত ১২ মার্চ রাতে জামালপুর সদর উপজেলায় ৩৭ কার্টুন মাংস আসে। ওই দিন গভীর রাতেই গোপনে দুম্বার মাংস কার্টুনগুলোর বিতরণ করা হয়।

 

জামালপুর সদর উপজেলার মাংস পেয়েছেন যারা, রহিমা মোজাফফর এতিমখানার পক্ষে জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোজাফফর হোসেনের বাড়ির কেয়ারটেকার হারুন ২কার্টুন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ও তাঁর তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ২ কার্টুন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) ১ কার্টুন ও ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) ১কার্টুন, মাংস পরিবহনের শ্রমিক ২কার্টুন ও ১৫ টি ইউনিয়ন পরিষদে ১কার্টুন করে নিয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি অফিসের কর্মচারীদের মাঝে ও কয়েকটি এতিমখানা ও মাদ্রাসাতেও বিতরনের কথা বলা হয়েছে। প্রত্যেকটি কার্টুনে প্রায় ২৫ কেজি করে মাংস ছিল।

 

সরাসরি দুস্থদের মধ্যে বিতরণ না করে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করা হয়। দুস্থদের মাংস ওই সব ব্যক্তিরা ভাগবাটোয়ারা নেওয়ার ঘটনাটি জানাজানি হলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

 

উপজেলা পরিষদের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অসহায় ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণের জন্য প্রতি বছর বাংলাদেশে কোরবানীর দুম্বার মাংস পাঠায় সৌদি সরকার। গত ১২ মার্চ রাতে জামালপুর সদর উপজেলায় ৩৭ কার্টুন মাংস আসে। ওই দিন গভীর রাতেই গোপনে দুম্বার মাংস কার্টুনগুলোর বিতরণ করা হয়।

 

তালিকায় থাকা রহিমা মোজাফ্ফর নামের কোন এতিমখানা খুঁজে যাওয়া যায়নি। তবে সদর উপজেলার খুপিবাড়ী এলাকায় ছইম উদ্দিন হাফেজিয়া ও ইসলামী কিন্ডার গার্টেন মাদ্রাসা রয়েছে। ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে প্রধান ফটকে জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মোজাফফর হোসেনের নাম রয়েছে। সেখানকার এক সহকারী শিক্ষক বলেন, ১০টুপলা মাংস পেয়েছেন। সেখানে প্রায় ২০ কেজির মতো মাংস ছিল। বাকী মাংসের বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।

 

এদিকে রহিমা মোজাফ্ফর নামের এতিমখানার পক্ষে উপজেলা পরিষদ থেকে মাংস গ্রহণ করে ওই সংসদ সদস্যের বাড়ির কেয়ারটেকার হারুন। তিনি

 

মুঠোফোনে বলেন, ‘মাংস গুলো ওই মাদ্রাসায় দিয়েছি। ওই মাদ্রাসায় ১০টুপলা মাংস পেয়েছেন এমন এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি তিনি। অথচ বরাদ্দকৃত ২কার্টুনের মধ্যে প্রায় ৫০কেজি মাংস ছিল। বাকী ৩০কেজি মাংস কার বাড়িতে গেলো। এর কোন সদুত্তর নেই কারো কাছে।

 

একই ভাবে তালিকায় থাকা একটি মাদ্রাসার হুজুরের সঙ্গেও কথা হয়। তিনি বলেন, এক কার্টুন মাংস পায়নি। দুটি টুপলায় প্রায় ৫ কেজি মাংস মাদ্রাসায় দেওয়া হয়েছে। এভাবে মাংসগুলো বিত্তশালীরা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।

 

জামালপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো.আরিফুর রহমান বলেন, ‘গোস্তগুলো দরিদ্র মানুষ, এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণের নির্দেশনা ছিল। সেই অনুযায়ী আমরা প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদের একটি করে কাটুন দিয়েছি। তাঁদের নির্দেশনা দিয়েছি, মাদ্রাসা বা দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য।

 

জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিতরণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাঁরা তাঁদের এলাকার মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দেওয়ার জন্যে নিয়েছেন। গোস্ত বিতরণে কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে, খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।