২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি রাখা নিয়ে সমালোচনার পর তা বাদ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বইটিতে জ্ঞানের পিরামিডের চারটি স্তরের নাম থাকলেও সেখানে কোনো ধরনের প্রতীক বা আইকন রাখা হবে না।
রোববার (২৬ অক্টোবর) এনসিটিবির সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এনসিটিবি জানিয়েছে, বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এই চার স্তরের নাম শুধু লিখিত আকারে থাকবে, কোনো প্রতীক ব্যবহার করা হবে না। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ৩৮ লাখ কপি বই ছাপার কাজ প্রায় শেষের পথে। যেসব বই মাঠপর্যায়ে বা প্রেসের কাছে চলে গেছে, সেগুলোর সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় নতুন করে পরিমার্জিত পাতা বসিয়ে দেওয়া হবে। আগামী বছর এই বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে পরিমার্জন করা হবে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে বইটির ছাপার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে প্রেস মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন করে পরিমার্জিত পৃষ্ঠা যুক্ত করার বিষয়ে সম্মতি হয়।
জ্ঞানের পিরামিডের চার স্তর ও পরিবর্তন ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে নিচ থেকে ওপরের দিকে জ্ঞানের পিরামিডের চারটি স্তর দেখানো হয়েছে। স্তরগুলোর মধ্যে রয়েছে উপাত্তের জন্য বৃত্তাকার প্রতীক বা পাই চার্ট, তথ্যের জন্য পরমাণু বা নেটওয়ার্কের প্রতীক এবং জ্ঞানের স্তর বোঝাতে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। আগে প্রজ্ঞার স্তরে দাঁড়িপাল্লা রাখা হলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন কোনো প্রতীক থাকবে না।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়ার পর ২০২৫ সালের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়েও প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে চলতি শিক্ষাবর্ষের বইয়ে মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হলেও ২০২৭ সালের খসড়ায় পুনরায় দাঁড়িপাল্লা আসায় বিতর্ক তৈরি হয়। অবশেষে এনসিটিবির এই সংশোধনীতে প্রতীক বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এল।





