কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার তিন কিশোরী গত ৫ অক্টোবর হঠাৎ নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে তাদের সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়। এরপর নিখোঁজ কিশোরীদের উদ্ধারে অনুসন্ধান নেমে পুলিশের সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিরপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার তিন কিশোরী গত ৫ অক্টোবর পরিবারের কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে তাদের সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়। এরপর নিখোঁজ কিশোরীদের উদ্ধারে অনুসন্ধান শুরু করে মিরপুর থানা পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, টিকটকের মাধ্যমে কুষ্টিয়ার মিরপুরের এক কিশোরীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার এক কিশোরীর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একইভাবে মিরপুরের আরও দুই কিশোরীর মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে চার কিশোরী একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর মিরপুরের তিন কিশোরী বাড়ি ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে নারায়ণগঞ্জের কিশোরীর সঙ্গে মিলিত হওয়ার পর তারা একসঙ্গে বসবাস শুরু করে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চার কিশোরী ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেয়। সেখানে দুই কিশোরী পবিত্র কোরআন স্পর্শ করে ‘বিয়ের’ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। এরপর তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে বসবাস শুরু করে। অপর দুই কিশোরীও একই বাসায় অবস্থান করছিল।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে জানান, তিন কিশোরীর নিখোঁজের অভিযোগ আসার পর তাদের উদ্ধারে অনুসন্ধান শুরু করে মিরপুর থানা পুলিশ। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া চারজনের বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, টিকটক গ্রুপের মাধ্যমে কিশোরীদের মধ্যে পরিচয় ও সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। নিখোঁজ তিন কিশোরীকে ঢাকার হেমায়েতপুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের একজনকেও উদ্ধার করা হয়। পরে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।





