Thursday, 29 October 2026
শিরোনাম
ইউপি নির্বাচন: আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ শাস্তি ২ বছরের কারাদণ্ড বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ মিললো তুরাগে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা মামলায় হানিফের মৃত্যুদণ্ড বাবার মৃত্যুর ১৫ মিনিট পর জন্ম নিল পুত্রসন্তান, ‘আনন্দে’ বিষাদের ছায়া! কুমারখালীতে ৩১ মেধাবী শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ও নগদ অর্থ প্রদান কবরের দুই ফেরেশতার প্রশ্ন নিয়ে প্রচলিত বিশ্বাসে আপত্তি, ইসলামি বক্তাকে গুলি করে হত্যা লগি-বৈঠার সহিংসতার বিচার দাবি জামায়াতের মা হারালেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি গাজীপুরে ‘জঙ্গি নাটক’ মামলায় হাসিনাসহ ১০ জনের শুনানি ১৭ নভেম্বর সুনামগঞ্জে জাতীয় সড়ক দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা
জেলার খবর

রজনী ঘোষ লেনেই পড়ে আছে পাথরটি, ছবি তুলছেন উৎসুক জনতা

• • পঠিত 10 বার
শেয়ার করুন:
রজনী ঘোষ লেনেই পড়ে আছে পাথরটি, ছবি তুলছেন উৎসুক জনতা

রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক মিটফোর্ড এলাকার রজনী ঘোষ লেনে পড়ে রয়েছে একটি পাথর—যা এখন হয়ে উঠেছে আলোচিত হত্যাকাণ্ডের নিদর্শন। আর এই পাথরকে কেন্দ্র করেই প্রতিদিন ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও উৎসুক জনতা। কেউ দাঁড়িয়ে দেখছেন নীরবে, কেউ আবার মোবাইলে ছবি তুলছেন সেই রক্তাক্ত স্মৃতির সামনে।

 

ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায়। পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে প্রকাশ্যে পিটিয়ে এবং বিশাল আকৃতির পাথর দিয়ে মাথা ও বুক থেঁতলে হত্যা করা হয় ভাঙারি ব্যবসায়ী মো. লাল চাঁদ সোহাগকে (৩৯)। দৃশ্যটি ছিল এতটাই নির্মম ও বিভীষিকাময় যে, আশপাশের মানুষ আতঙ্কে দিকবিদিক ছুটে যায়।

 

নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিটফোর্ড এলাকার ৪ নম্বর রজনী ঘোষ লেনে ভাঙারি মালামালের ব্যবসা করতেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি একজন পরিচিত মুখ ছিলেন।

 

এ হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও ঘটনার দুই দিন পর শুক্রবার (১১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে তা দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় তোলে। সমালোচনার তীব্রতা এতটাই বেড়ে যায় যে, একই দিনে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ মিছিল করে হত্যার প্রতিবাদ জানান।

 

নিহতের বোন কোতোয়ালি থানায় দায়ের করেন একটি হত্যা মামলা, যাতে ১৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। পুলিশ এ পর্যন্ত মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যুবদল ও ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকেও দলীয়ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সোহাগকে হত্যার জন্য ব্যবহার করা সেই পাথরটি এখনও একই জায়গায় পড়ে আছে—রক্তের দাগ মুছে গেলেও দুঃসহ স্মৃতি মুছে যায়নি। কেউ কেউ দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছেন, কেউ আবার চুপচাপ তাকিয়ে আছেন সেই পাথরের দিকে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত বড় একটি হত্যাকাণ্ডের পরও এলাকার কেউ এই বিষয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না। যেন এক অদৃশ্য ভয় চেপে আছে চারপাশে।

 

এই ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি নগরজীবনের নৃশংস বাস্তবতা, অপরাধ প্রবণতার নগ্ন প্রদর্শন এবং জনমানসে গভীর আতঙ্কের প্রতিচ্ছবি হয়ে রয়ে গেছে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।