Monday, 26 October 2026
শিরোনাম
ভারতে ৬১ শতাংশ মুসলিমদের ঈদের ছুটি ১ দিন, বাংলাদেশে হিন্দুদের পূজার ছুটি ৫ দিন মধ্যরাতে ডাকাতের কবলে ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানি সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ: আইজিপি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির চুম্বনের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ায় ভারতীয় যুবক কারাগারে ‘এই চড় কোটি মানুষের প্রতিবাদের ভাষা’ কুমারখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে অ্যাড. জাকারিয়া মিলন প্রবাসীর স্ত্রীর ভিডিও ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার বিয়ের দাবিতে বিচারকের বাড়িতে শিক্ষিকার অনশন! বিধবা নারীর সঙ্গে প্রেম: মামাকে রাস্তা থেকে সরাতে ডেকে নিয়ে খুন করল ভাগিনা! সেনাবাহিনীর পোশাকে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণ-টাকা লুট
মতামত

ভারতে ৬১ শতাংশ মুসলিমদের ঈদের ছুটি ১ দিন, বাংলাদেশে হিন্দুদের পূজার ছুটি ৫ দিন

• • পঠিত 8 বার
শেয়ার করুন:
ভারতে ৬১ শতাংশ মুসলিমদের ঈদের ছুটি ১ দিন, বাংলাদেশে হিন্দুদের পূজার ছুটি ৫ দিন
ছবি এআই জেনারেট

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গোৎসব বিগত ৫৫ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবেই পালিত হয়েছে। তবে আওয়ামী আমলে কিছু আওয়ামী দুষ্কৃতকারী পূজা মণ্ডপে অনুপ্রবেশকারী হিসাবে ঢুকে পূজা ম-পের অবমাননা করেছে। অবমাননা করে সুকৌশলে তার দায় বিএনপি এবং জামায়াতের ওপর চাপিয়েছে। উদ্দেশ্য ছিলো, বাংলাদেশে বিরাজমান বহুদিনের হিন্দু মুসলিম সম্প্রীতি বিনষ্ট করা। হিন্দু ভাইদের একটি অংশ দুঃখজনকভাবে আওয়ামী লীগের এই চক্রান্তের ফাঁদে পা দিয়েছিলেন এবং পা দিয়ে বছরের পর বছর আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছেন। 

 

জুলাই বিপ্লবের পর আওয়ামী লীগ ঝাড়ে বংশে দেশ থেকে বিতাড়িত হলেও তাদের অবশিষ্টাংশ, যারা আত্মগোপনে ছিলেন, তারা বিগত ২ বছর ধরে গোপনে এই সম্প্রীতি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র করলেও সফল হতে পারেননি। ড.ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিএনপি জামায়াত সকলে মিলে হিন্দু ভাইদের প্রতিটি অনুষ্ঠানে রাত জেগে তাদের মন্দির এবং বিগ্রহ পাহারা দিয়েছেন। তাই আওয়ামী গুপ্ত বাহিনী বা বাইরে থেকে আসা এজেন্টরা সফল হয়নি। 

 

বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং সাধারণ ভাবে সমগ্র ভারতের জনসংখ্যা এবং দুর্গাপূজা এবং ঈদের ছুটি লক্ষ্য করলে এই বিষয়টি উৎকটভাবে ধরা পড়বে যে, ঈদের ছুটির ব্যাপারে কি ভারত সরকার, কি পশ্চিমবঙ্গ সরকার, কি আসাম সরকার চরম সংকীর্ণতার পরিচয় দিয়েছে। বিপরীত চিত্রে দেখা যায় যে, বাংলাদেশে সনাতন সম্প্রদায় অর্থাৎ হিন্দু সম্প্রদায় ভারতের মুসলমানদের তুলনায় সংখ্যানুপাতে কম হলেও বাংলাদেশ সরকার পূজার ছুটি দেওয়ার ব্যাপারে বিশাল উদারতার পরিচয় দিয়েছে। নীচের কয়েকটি পরিসংখ্যান আমাদের এই বক্তব্যের সপক্ষে প্রমাণ হিসাবে কাজ করবে। 

 

প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ। ভারতের আদমশুমারির ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যার সারণি মোতাবেক পশ্চিমবঙ্গের মোট জনসংখ্যা ২০১১ সালে ৯ কোটি ১২ লক্ষ ৭৬ হাজার ১১৫ জন। ২০২৬ সালে জাতিসংঘের প্রক্ষেপণ মোতাবেক ১০ কোটি ৬ লক্ষ ৩১ হাজার জন। ২০১১ সালের আদমশুমারি মোতাবেক মুসলিম জনসংখ্যা ৯ কোটি ১২ লক্ষ ৭৬ হাজার ১১৫ জনের মধ্যে ২ কোটি ৪৬ লক্ষ ৫৪ হাজার ৮২৫ জন। অর্থাৎ মুসলিম জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার ২৭ দশমিক ০১ শতাংশ। ২০২৬ সালের ১০ কোটি ৬ লক্ষ ৩১ হাজারের ২৭ দশমিক ০১ শতাংশে হলো ২ কোটি ৭১ লক্ষ ৮০ হাজার। 

 

লক্ষ্য করুন, যেখানে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার ২৭ শতাংশ সেখানে  হিন্দুদের দুর্গা পূজা উপলক্ষে ছুটি ছিলো ১২দিন। পক্ষান্তরে ২৭ শতাংশ মুসলমানদের ঈদ উৎসবে মূল ছুটি মাত্র ১ দিন। অর্থাৎ ঈদুল ফিতরে ১ দিন এবং ঈদুল আযহায় ১ দিন। তবে রাজ্য সরকার বিশেষ বিবেচনায় আরেকদিন অতিরিক্ত ছুটির ব্যবস্থা করেছে।

 

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গেজেট মোতাবেক ২০২৬ সালে পূজা উপলক্ষে তাদের যে ১২ দিনের সরকারী ছুটি দেয়া হয় তার তালিকা নিম্নরূপঃ  ১৫ অক্টোবর মহাচতুর্থী। ১৬ অক্টোবর মহাপঞ্চমী। ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী। ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী। ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী। ২০ অক্টোবর মহানবমী। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী। ২২-২৩ অক্টোবর দুর্গাপূজার অতিরিক্ত ছুটি। ২৪ অক্টোবর অতিরিক্ত ছুটি। ২৫ অক্টোবর রবিবার। ২৬ অক্টোবর  লক্ষ্মীপূজার অতিরিক্ত ছুটি। 

 

এর পাশাপাশি বাংলাদেশের অবস্থা দেখুন। 

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ২০২৬ সালে জাতিসংঘের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ১৭ কোটি ৭৮ লক্ষ ১৮ হাজার ৪৪ জন। মোট হিন্দু জনসংখ্যা ১ কোটি ৩১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৭৪৯ জন। 

 

মোট হিন্দু জনসংখ্যার অনুপাত ঃ  ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এই ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ জনগোষ্ঠীর জন্য এবার ২০২৬ সালে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি দেওয়া হয়েছিলো ৫দিন। এই ৫দিনের মধ্যে ঐচ্ছিক ছুটি দেওয়া হয়েছিলো ১৮ ও ১৯ অক্টোবর। অর্থাৎ রবি ও সোমবার মহাসপ্তমী ও মহাঅষ্টমীর জন্য। ২০,২১ অক্টোবর মহানবমী ও বিজয়া দশমীর জন্য সরকারী ছুটি। ২২ অক্টোবর সরকারী নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজা উপলক্ষে অতিরিক্ত ছুটি। তাহলে ঐচ্ছিক ও নির্বাহী আদেশ বলে ১৮ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ৫ দিন ঐচ্ছিক ও নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৫ দিনের ছুটি। ২৩ এবং ২৪ অক্টোবর  ২ দিন সাপ্তাহিক ছুটি। তাহলে এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ভাইয়েরা পেলেন সাপ্তাহিক ছুটি ধরে টানা ৭ দিন। 

 

আসামে মুসলমানদের ছুটির অবস্থা আরো করুণ। আসামের মোট জনসংখ্যা ২০২৬ সালে আনুমানিক  ৩ কোটি ৬৮ লক্ষ ১৫ হাজার জন। মুসলমানদের জনসংখ্যা আনুপাতিক হারে ৩৪ দশমিক ২২ শতাংশ। অর্থাৎ ১ কোটি ২৫ লক্ষ ৯৮ হাজার। এখানে একটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য করার দাবিদার। আসামে মুসলিম জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৩৪ দশমিক ২২ শতাংশ। অথচ, সেখানে মুসলমানরা ঈদের ছুটি পান মাত্র ১ দিন। আর হিন্দুরা পূজার ছুটি পান মোট ৫ দিন। এই ৫দিন হলো ১৭ অক্টোবর মহাসপ্তমী, অতিরিক্ত ছুটি। ১৮ অক্টোবর কাতি বিহু ও দুর্গাপূজা, ১৯ অক্টোবর দুর্গাপূজা, ২০ অক্টোবর দুর্গাপূজা, ২১ অক্টোবর দুর্গাপূজা। 

 

সমগ্র ভারতের অবস্থাও মুসলমানদের জন্য হতাশাব্যঞ্জক। ২০২৬ সালে জাতিসংঘের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ভারতের মোট জনসংখ্যা ১৪৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ২৫ হাজার ৫৭৭ জন। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে বলা হয়েছিলো যে, মুসলিম জনসংখ্যার শতকরা হার হলো ১৪ দশমিক ০২ শতাংশ। অর্থাৎ সারা ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ২০ কোটি ৭০ লক্ষ। সমগ্র ভারতে কেন্দ্রীয় সরকার দুর্গাপূজা উপলক্ষে ছুটি দিয়েছিলো  ৩দিন। পক্ষান্তরে ঈদ উপলক্ষে ছুটি দিয়েছিলো মাত্র ১ দিন। লক্ষ্য করার বিষয় হলো এই যে, মুসলমানরা মোট জনসংখ্যার ১৪ দশমিক ০২ শতাংশ হলেও ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আযহা উপলক্ষে তাদের কোনো ঐচ্ছিক ছুটি ছিলো না। 

 

এই পটভূমিতে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ বা ৮ শতাংশ হলেও তাদের জন্য পূজায় ৫ দিনের ছুটিতে বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ মুসলমান ভাইয়েরা অসন্তুষ্ট হননি। বরং বিগত ৫৫ বছরের মধ্যে এবারেই অর্থাৎ ২০২৬ সালেই বাংলাদেশের সনাতনী সম্প্রদায় সবচেয়ে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে তাদের বছরের শ্রেষ্ঠ ধর্মীয় উৎসব পালন করেছেন। 

 

এটি শুধু আমাদের কথা নয়। স্বয়ং ভারতীয় হাই কমিশনারও সেই কথা বলেছেন। হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী একজন সিনিয়র বিজেপি নেতা। তবে তিনি দল পাল্টানো নেতা। ২০০৯ সালের ২২ মে থেকে ২০১১ সালের ১৩ জুলাই পর্যন্ত দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তখন তিনি মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেস করতেন এবং মমতা ব্যানার্জীর নমিনী হিসাবে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালের ১৩ জুলাই  থেকে ২০১২ সালের ১৯ মার্চ মমতা ব্যানার্জীর নমিনী হিসাবে তিনি রেল মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন। ৬ মার্চ ২০২১ সালে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে.পি নাড্ডার উপস্থিতিতে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন।

 

এখন তিনি বিজেপির নেতা হিসাবে বাংলাদেশের হাই কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে নরেন্দ্র মোদির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে জরুরী ভিত্তিতে কোনো কিছু জানাতে হলে দীনেশ ত্রিবেদী স্বল্পতম সময়ের ব্যবধানে বিমানযোগে দিল্লীতে উড়ে যান এবং পরদিন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে দেখা করেন এবং রিপোর্ট করেন। গত দিল্লী সফরের সময়ও তিনি একই কাজ করেছেন। তবে এবার তিনি নরেন্দ্র মোদি ছাড়াও ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সাথেও বৈঠক করেছেন। তবে বাংলাদেশ নিয়ে ভারতীয় সেনাপ্রধানের সাথে ভারতীয় হাই কমিশনারের  বৈঠকে কি বিষয় থাকতে পারে সেটি বোধগম্য নয়। এ হেন হাই প্রোফাইল হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী স্বয়ং বলেছেন যে, এবার বাংলাদেশে হিন্দুদের দুর্গাপূজা অত্যন্ত উৎসব মুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে। 

 

শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হওয়ায় বিএনপি সরকারের প্রসন্ন হওয়ার যুক্তিসংগত কারণ রয়েছে। এবারের পূজা উদযাপন শান্তিপূর্ণ কেনো হলো সেটি দীনেশ ত্রিবেদী এবং বাংলাদেশের সনাতন সম্প্রদায়ের উপলব্ধি করার সময় এসেছে। এর সহজ সরল কারণ হলো এই যে এদেশে অতীতে সনাতন সমাজের কারো কারো ওপর যে নিপীড়ন হয়েছে সেটি করেছে আসলে আওয়ামী লীগ। উদ্দেশ্য, সেই নিপীড়নের দায় বিএনপি জামায়াত তথা দক্ষিণপন্থীদের ওপর চাপিয়ে হিন্দুভোট আদায় করা। এবার আওয়ামী লীগের উৎপাত ছিলো না। তাই পরিস্থিতি শান্ত ছিলো। বাংলাদেশের জনগণ আশা করেন যে, দীনেশ ত্রিবেদী মহাশয় এই সহজ সরল সত্যটি দিল্লী সরকারকে জানাবেন এবং তারা যেনো সেই সহজ সরল সত্যটি উপলব্ধি করেন সেই চেষ্টা করবেন। দিল্লী যদি এই অমোঘ সত্যটি হৃদয়ঙ্গম করে তাহলে বাংলা ভারত সম্পর্কের উন্নতি হবে।  

লেখক :মোবায়েদুর রহমান, Email: journalist 15 @gmail.com

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।