Monday, 26 October 2026
শিরোনাম
সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ: আইজিপি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির চুম্বনের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ায় ভারতীয় যুবক কারাগারে ‘এই চড় কোটি মানুষের প্রতিবাদের ভাষা’ কুমারখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে অ্যাড. জাকারিয়া মিলন প্রবাসীর স্ত্রীর ভিডিও ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার বিয়ের দাবিতে বিচারকের বাড়িতে শিক্ষিকার অনশন! বিধবা নারীর সঙ্গে প্রেম: মামাকে রাস্তা থেকে সরাতে ডেকে নিয়ে খুন করল ভাগিনা! সেনাবাহিনীর পোশাকে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণ-টাকা লুট টঙ্গীর সেই মাদ্রাসা শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর মেলান্দহে ভূমি অফিসের নিলামকৃত গাছ কাটা নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন
আর্ন্তজাতিক

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির চুম্বনের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ায় ভারতীয় যুবক কারাগারে

• • পঠিত 13 বার
শেয়ার করুন:
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির চুম্বনের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ায় ভারতীয় যুবক কারাগারে
ছবি সংগৃহিত

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দু্ই বাংলাদেশি নাগরিকের চুম্বনের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টের দায়ে ২০২৩ সাল থেকে সৌদি আরবের কারাগারে বন্দী রয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের এক যুবক।

 

 

ইন্ডিয়ান এক্সেপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুর্শিদাবাদের বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন শেখ পেশায় একজন পরিযায়ী শ্রমিক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সৌদি আরবে কাজ করছেন। মক্কায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করার সময় তার উপস্থিতিতেই ওই দুই বাংলাদেশি পরস্পরকে চুম্বন করেন বলে জানা গেছে।

 

 

অভিযোগ অনুযায়ী, সে সময় পাকিস্তানের এক যুবক সাহাবুদ্দিনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ওই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করেন।  পরে ভিডিওটি স্যোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় পরবর্তী সময়ে সাহাবুদ্দিন শেখকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

মুর্শিদাবাদে সাহাবুদ্দিনের পরিবারের দাবি, নিছক মজা করার জন্যই ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন তিনি। এর পরিণতি এত ভয়াবহ হতে পারে, তা সাহাবুদ্দিন বা তার সঙ্গীরা কেউই ভাবতে পারেননি। ভিডিওটি প্রকাশের অভিযোগে সৌদি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন সাহাবুদ্দিন। ২০২৩ সাল থেকে টানা তিন বছর ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

 

সাহাবুদ্দিনের মা কোহিনুর বিবি বলেন, ‘ও বড় কোনও অপরাধ তো করেনি। একটা ভিডিও ছেড়েছে বলে এভাবে জেল খাটতে হচ্ছে!’

 

কোহিনুর বিবি জানান, গত আট বছর ধরে সৌদি আরবে কাজ করছিলেন তার ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন সাহাবুদ্দিন। বিদেশ থেকে তার পাঠানো টাকাতেই সংসার চলত। কিন্তু ছেলে কারাগারে বন্দি থাকায় এখন আর্থিক সংকটে পড়েছে পরিবার। কোনও রকমে দিন কাটছে তাদের।

 

এদিকে, ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় ছেলেকে নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে কোহিনুর বিবির। সাহাবুদ্দিনের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত এই মা বলেন, ‘আমার ছেলের কী হবে জানি না। ভয়ে ভয়ে আছি।’ সাহাবুদ্দিনের পরিবার জানিয়েছে, তাকে সৌদির জেল থেকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনাতে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু উত্তর মেলেনি।

 

 

উল্লেখ্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বশির এবং সুইটি আখতার। 

 

সৌদি আরবের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভিতরে ‘অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করা’।

 

দুই বাংলাদেশি নাগরিকের অপরাধ কী ছিল, দণ্ড কী ভাবে কার্যকর হয়েছে, তাদের মরদেহ এখন কোথায় এবং বিচারে তাদের পক্ষে কোনও আইনজীবী ছিলেন কি না, এ সব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সৌদির সরকারকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।