Monday, 19 October 2026
শিরোনাম
বিনোদন

অশিক্ষিতদের তারকা না বানানোর পরামর্শ শবনম ফারিয়ার

• • পঠিত 11 বার
শেয়ার করুন:
অশিক্ষিতদের তারকা না বানানোর পরামর্শ শবনম ফারিয়ার

কিছুদিন আগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ূয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন জনপ্রিয় ফুড ভ্লগার ফাবিয়া হাসান মনিষা, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে ফুড আপ্পি নামেই বেশি পরিচিত।

 

সপ্তাহখানেক আগে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ফাবিয়া হাসান মনিষা ওরফে ফুড আপ্পি বলেন, “ভাগ্যিস আমার বাবা-মায়ের অঢেল টাকা ছিলোনা, থাকলে তারাও মনে হয় টাকা দিয়ে আমাকে অনেক দামি প্রাইভেট ভার্সিটিতে (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে) অশ্লীলতা শিখতে পাঠাতো।” যদিও তুমুল সমালোচনার মুখে তিনি পরবর্তীতে সেই পোস্ট মুছে দেন।

 

সেই পোস্ট মুছে দেওয়ার আগে তাতে প্রতিবাদ জানান জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। ছোটপর্দার জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী সেই পোস্টের কমেন্ট সেকশনে বলেন, “তাদের (ফুড আপ্পির বাবা-মায়ের) টাকা আরেকটু কম থাকলে আরও ভালো হতো। তাহলে স্মার্টফোন/ ইন্টারনেট কিনে এসব অনর্থক স্ট্যাটাস দিতে পারতেন না। আর আমার মনে হচ্ছে তাদের টাকা না থাকায় ভালোই হয়েছে। আপনার যে জ্ঞান আর চিন্তাধারা, তাতে আপনাকে প্রকৃত শিক্ষা তো দিতে পারতো না; অযথা তাদের টাকাটা নষ্ট হতো। আপনার জানার সুবিধায় বলে রাখি, বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ৭০% ছেলে-মেয়ের পরিবারের অঢেল টাকা নেই।”

 

তবে এবার সরাসরি আরও স্পষ্টভাষায় ফুড আপ্পির মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে অমূলক-ভ্রান্ত ধারণা রাখা ব্যক্তিদের এক হাত নিয়েছেন শবনম ফারিয়া। শুধু তাই না, কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যে যারা এমন পশ্চাৎমুখী ধারণা রেখে বাঁকা দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলেন, তাদেরও তারকা না বানানোর আহ্বান জানিয়েছেন এ অভিনেত্রী।

 

বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলের দিকে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শবনম ফারিয়া বলেন, “অনুগ্রহ করে কাদের তারকা বা রোল মডেল (আদর্শ) বানাবেন, কাদের ফলো (অনুসরণ) করবেন জেনে বুঝে করবেন। অশিক্ষিত, অসভ্য মানুষদের যদি তারকা বানানোর চেষ্টা করেন, পরবর্তীতে ওইরকম মানুষই সামনে আসবে। যারা জানে না বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় মেরিট বেজড স্কলারশিপ বা নিড বেজড স্কলারশিপ বলে একটা বিষয় আছে, অনুগ্রহ করে তাদের অনুসরণ করে তারকা বানাবেন না। একজন অযোগ্য মানুষকে তারকা বানিয়ে আরও ১০ জন অযোগ্য মানুষকে উৎসাহ দিচ্ছেন বেফাঁস কথা বলে সেটাকে আবার ডিফেন্ড করার। প্লিজ এটা করবেন না।”

 

বিষয়টিকে দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার উল্লেখ করে এ অভিনেত্রী বলেন, “বিষয়টা সরকারি বেসরকারি নিয়ে না। একজন শিক্ষিত মানুষ কোনোদিন অশ্লীল ইঙ্গিত দিয়ে এটা বলতে পারে না যে পরিবারের অঢেল টাকা না থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অধিকাংশ ছেলেমেয়েরা কোনো সোর্স(উৎস) থেকে টাকা আয় করে পড়াশোনা করে!”

 

নিজের বাস্তবজীবনের চিত্রের কথা জানিয়ে ফারিয়া বলেন, “আমি বর্তমানে আইইউবিতে (ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ) মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) করছি। আমার একজন ব্যাচমেটও নেই যারা চাকরি করছে না কিংবা চাকরির চেষ্টা করছে না। ভালো চাকরি পাচ্ছে না বলে অনেককে দেখছি টিউশনি করাচ্ছে। যেহেতু আমার আন্ডারগ্রেডও (স্নাতক) একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছিল, তখনো আমার অনেক ক্লাসমেটদের দেখেছি পার্টটাইম চাকরি কিংবা টিউশনি করতে।”

 

সবশেষে সচেতনতার আহ্বান জানিয়ে এ অভিনেত্রী বলেন, “আপনারা যারা এখনো এসব মানুষদের দিয়ে আপনাদের প্রতিষ্ঠানের প্রচারণা করাচ্ছেন, আপনারাও কিন্তু এসব বক্তব্যকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। অনুগ্রহ করে শুধুমাত্র একটু প্রচারণার জন্য এসব মানুষদের উৎসাহ দেবেন না। প্লিজ।”

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।