ভুয়া বিল তৈরি করে সরকারি ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ এবং জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগে দুই শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। পঞ্চগড় জেলা কারাগারের তৎকালীন জেলার মো. আব্দুল ফাত্তাহকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন দুটি রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মো. আব্দুল ফাত্তাহ বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের জেলার ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিনটি ভুয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৭টি জাল বিল তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো—বাবা মায়ের দোয়া, নূর স্টোর ও শুভ স-মিল। এসব বিলের মাধ্যমে ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
জেল সুপার, হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এক কারারক্ষীর সঙ্গে যোগসাজশ করে এ দুর্নীতি করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ ছাড়া বন্দির সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত খোরাকি রেশন দাবি এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে কারারক্ষীকে দিয়ে বিল প্রস্তুত ও রেজিস্টারে তথ্য লেখানোর অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।
এসব অভিযোগে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহার বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য না দিয়েও জাল সমন ও সাক্ষ্য প্রদানের সনদ ব্যবহার করে ভুয়া বিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
এ ছাড়া প্রাধিকার না থাকা সত্ত্বেও গত ২৩ বছরে শতাধিকবার বিমানে ভ্রমণ করে ৩ লাখ ১৫ হাজার ৭৫৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব অসদাচরণ ও দুর্নীতির দায়ে তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ এবং আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।





