Sunday, 11 October 2026
শিরোনাম
জাতীয়

পাঠাওয়ের ২ কোটি গ্রাহকের তথ্য ফাঁস, ঝুঁকিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা

• • পঠিত 13 বার
শেয়ার করুন:
পাঠাওয়ের ২ কোটি গ্রাহকের তথ্য ফাঁস, ঝুঁকিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা
ছবি সংগৃহিত

পাঠাওয়ের প্রায় দুই কোটি গ্রাহকের তথ্য চুরি হয়ে গেছে। চুরি করেছে একটি হ্যাকার গ্রুপ। গত ৭ অক্টোবরের বিবৃতিতে পাঠাও জানায়, নাম, ই-মেইল ঠিকানা, ফোন নম্বরসহ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত কিছু তথ্য ক্ষতিকর ব্যক্তিদের হাতে পৌঁছেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চর্চার পাশাপাশি গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে খবর।

 

এ বিষয়ে পাঠাও ব্যবহারকারীরা বলেন, ‘আমাদের ফোনেই তো সবকিছু রয়েছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে বিকাশ, নগদ ও রকেট—সবকিছুর তথ্যই ফোনে আছে। সুতরাং, যদি ডেটা হ্যাক হয়ে যায়, তাহলে অবশ্যই উদ্বিগ্ন হওয়ার বিষয় রয়েছে। হ্যাক হয়ে গেলে আমাদের সবারই ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অর্থাৎ, আমরা সবাই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি। বিষয়টি অবশ্যই উদ্বেগজনক। তবে আমাদের প্রশাসন বা সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ বিষয়টিকে কীভাবে দেখবে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।’

 

এই বিষয়ে পাঠাও অফিসে যোগাযোগ করা হলে, কিছু জানাতে আগ্রহী হননি কোনো কর্মকর্তা।

 

তবে তথ্য ফাঁসের ঘটনা যাচাই করতে গিয়ে হ্যাকার গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করে রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার সিকিউরিটি ক্লাব। হ্যাকাররা এই ক্লাবকে জানায়, পাঠাওয়ের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে এখনো প্রবেশাধিকার রয়েছে তাদের।
 

রুয়েট সাইবার সিকিউরিটি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ওলি হাসান জানান, হ্যাকাররা সম্ভবত ৪ লাখ ডলার দাবি করছে। এই অর্থ পরিশোধ করলে তারা আর তথ্য ফাঁস করবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত এই অর্থ দেয়া না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা একের পর এক তথ্য ফাঁস করতেই থাকবে।

 

তিনি আরও বলেন, তথ্য ফাঁসের বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে সবচেয়ে উদ্বেগজনক মনে হয়েছে যে, পাঠাওয়ের সিইও ও কো-ফাউন্ডারের যেসব তথ্য পাঠাওয়ের সিস্টেমে ছিল, সেগুলোও এখন ফাঁস হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সতর্কসংকেত হিসেবেও দেখা উচিত।

 

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়েছে ব্যবহারকারীর ডিজিটাল লেনদেন। তাদের শঙ্কা, সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার না হলে আরও বড় ঘটনার জন্ম দেবে।

 

এদিকে সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক নূর মোহাম্মদ জানান, পাঠাওয়ের মার্চেন্ট বা ব্যাংকিং লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট লিংক করা থাকে। এখান থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা কেটে নেয়ার (অটো ডেবিট) একটি সুবিধা রয়েছে। পাঠাওয়ের অবকাঠামো এই ব্যবস্থাকে কতটা নিরাপদ রেখেছে বা এর নিরাপত্তাব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হয়, তা আমি জানি না। তবে অটো ডেবিটের সুবিধাটি সক্রিয় করা থাকলে ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের সঙ্গে লিংক করা বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেয়া হতে পারে।

 

 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে আরও বেশি নজর দেয়া উচিত। বিশেষ করে, সরকারের এমন কিছু নিয়মকানুন প্রণয়ন বা কার্যকর করা উচিত, যেগুলো সংশ্লিষ্ট সবাইকে মেনে চলতে হবে। রাইড শেয়ার, খাবার ও পণ্য ডেলিভারি, ডিজিটাল পেমেন্টসহ নানা ধরনের সেবা দিয়ে থাকে পাঠাও। ২০২২ সালে ব্রেক-ইভেন ইভেন্ট পার করে প্রতিষ্ঠানটি। তখন পাঠাওয়ের বার্ষিক রেভিনিউ ছিল প্রায় দেড়শ কোটি টাকা।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।