Saturday, 24 October 2026
শিরোনাম
সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে জামায়াতের বাধা, গোপনে গার্ড অব অনার গোপালগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল থেকে পুলিশের গাড়িতে হামলা গ্রেফতার হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিল হতে পারে: মার্কিন দূতাবাস স্বামীর ‘ভালোবাসার আলিঙ্গনে’ ভাঙল স্ত্রীর পাঁজরের হাড় বিশ্ব দাড়ি কাটা দিবস আজ ফেসবুকের বিকল্প হিসেবে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হচ্ছে আলফাফা চেতনানাশক দিয়ে ধর্ষণের পর জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ খাওয়াতেন মাদ্রাসাশিক্ষক কুমারখালীতে দুর্গোৎসবে ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কৃত করল ফ্যামিলি কেয়ার বিএনপি নেতার স্ত্রীকে নিয়ে উধাও কথিত মামা, অতঃপর.... ৭ বছরের শিশুকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ, গণধোলাইয়ের পর মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ গ্রেপ্তার
এক্সক্লসিভ

হাজার কোটি টাকার সেচ ক্যানেল, তবু পানি পাচ্ছে না কৃষক

• • পঠিত 5 বার
শেয়ার করুন:
হাজার কোটি টাকার সেচ ক্যানেল, তবু পানি পাচ্ছে না কৃষক

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে খাল ও ক্যানেল নির্মাণ ও সংস্কার করা হলেও পানির অভাবে তা এখন প্রায় নামসর্বস্ব প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। তিস্তা নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় অবকাঠামো থাকলেও সেচ ক্যানেলে পানি পৌঁছাচ্ছে না। ফলে উপজেলার হাজার হাজার কৃষক এখন বিকল্প সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর হয়ে বাড়তি খরচে চাষাবাদ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

সরেজমিনে গঙ্গাচড়ার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তিস্তা নদীর বুকজুড়ে এখন বালুর স্তূপ। বর্ষা মৌসুমে যেখানে পানিপ্রবাহ কয়েক লাখ কিউসেক ছাড়িয়ে যায়, সেখানে শুষ্ক মৌসুমে তা নেমে আসে কয়েক হাজার কিউসেকে। অনেক সময় প্রবাহ আরও কমে যাওয়ায় সেচ ক্যানেলে পানি সরবরাহ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

 

তিস্তা ব্যারেজ থেকে পরিচালিত সেচ প্রকল্পের প্রধান ও শাখা খালগুলো রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলায় বিস্তৃত। এর একটি বড় অংশ গঙ্গাচড়া উপজেলাজুড়ে রয়েছে। বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে খাল সম্প্রসারণ ও সংস্কারের কাজ চললেও মূল উৎস নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় কৃষকরা এর সুফল পাচ্ছেন না।

গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল এলাকার কৃষক নূরুল হুদা বলেন, তিস্তার পানি পেলে বিঘা প্রতি সেচ খরচ হতো ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। এখন শ্যালো মেশিন দিয়ে ডিজেল পুড়িয়ে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

 

আলমবিদিতর ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ক্যানেল তৈরি হয়েছে, গেট হয়েছে, সবকিছুই আছে। কিন্তু পানি নেই। প্রতি বছর ক্যানেল কাটে, সংস্কার করে কিন্তু আমরা কোনোদিন ঠিকমতো পানি পাই না।

আরেক কৃষক এসোব আলী বলেন, তিস্তা ক্যানেলে পানি পেয়ে চাষাবাদ করার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু এখন বিকল্প সেচে দ্বিগুণ খরচ হচ্ছে। এতে লাভের বদলে ক্ষতির মুখে পড়ছি।

 

তিস্তা নদী রক্ষা কমিটির (বাপা) সভাপতি ফরিদুল ইসলাম ফরিদ বলেন, উজানে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের কারণে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীতে পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। ফলে তিস্তা সেচ প্রকল্পের ক্যানেলগুলোতে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন বলেন, বর্তমানে বোরো মৌসুম চলছে। বোরো ধান চাষের জন্য নিয়মিত সেচ পানির প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেচ ক্যানেলে পানি না থাকায় আমরা আমাদের চাষাবাদ পরিকল্পনা অনুযায়ী সেচ দিতে পারছি না। এতে আমাদের খরচ বাড়ছে এবং ফসলের ফলন অনিশ্চিত হচ্ছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদীতে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ না থাকায় সেচ ক্যানেলে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। উজানে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।

 

এদিকে কৃষকরা বলছেন, তিস্তার পানি না এলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব ক্যানেল তাদের কোনো কাজে আসছে না। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে উত্তরের কৃষি ব্যবস্থা আরও বড় সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।