সাকিব আল হাসান নাহিদ, জামালপুর।
বিয়ের মাত্র ২৩ দিন পার হয়েছে। এরই মধ্যে স্ত্রীকে হারানোর অভিযোগ তুলে থানায় মামলা করেছেন জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার বিএনপি নেতা সুজন মিয়া। তাঁর অভিযোগ, বিয়ের পর স্ত্রী সুমি আক্তারকে স্বর্ণালংকারসহ নিয়ে গেছেন তাঁর কথিত মামা এমদাদুল হক অরচন। এ ঘটনায় করা মামলায় অরচন ও সুমি আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে জামালপুর পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে এমদাদুল হক অরচনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুমি আক্তারকে উদ্ধার করে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিন দুপুরে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার এমদাদুল হক অরচনের বয়স ৪৫ বছর। তিনি মেলান্দহ উপজেলার শাহজাদপুর এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। পেশায় তিনি মেলান্দহ পৌরসভার বর্জ্যবাহী গাড়ির চালক। অন্যদিকে সুমি আক্তারের বয়স ২৭ বছর। তিনি একই উপজেলার কামদেববাড়ী এলাকার শাহিন মন্ডলের মেয়ে। অভিযোগকারী সুজন মিয়া দক্ষিণ ঝাউগড়া এলাকার মৃত ময়ুর আলীর ছেলে। তিনি ঝাউগড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সুমি আক্তারের সঙ্গে রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে বিয়ে হয় সুজন মিয়ার। বিয়ের সময় স্ত্রীকে দুটি স্বর্ণের আংটি, একটি চেইন, এক জোড়া বালা ও এক জোড়া কানের দুলসহ বিভিন্ন স্বর্ণালংকার দেন তিনি। এজাহারে এসব অলংকারের আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে সুজন মিয়ার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সুমির কথিত মামা অরচন তাঁকে বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করে আসছিলেন। গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় সুজন বাড়িতে না থাকার সুযোগে তাঁদের বাড়িতে যান অরচন। এ সময় সুমিকে তাঁর বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলেন তিনি। সুজনের মা ছেলের বাড়ি ফেরার পর সুমিকে যেতে বললেও তিনি অরচনের সঙ্গে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন সুজন। ওই রাতে সুমির মুঠোফোনে কল দিলে সেটি বন্ধ পান তিনি। পরদিন ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও ভাতিজাকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়েও সুমির সন্ধান পাননি। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অরচনের সঙ্গে সুমি চলে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন বলে দাবি করেন সুজন।
এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অরচনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জামালপুর পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে সুমিকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
বিয়ের অল্প দিনের মধ্যে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন সুজন মিয়া। তিনি বলেন, “বিয়ের ২৩ দিনের মাথায় সে আমার সঙ্গে এমনটা করবে, তা কল্পনাও করিনি। কত আশা নিয়ে তাকে ঘরে এনেছিলাম। এত অল্প সময়ের মধ্যে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, কখনো ভাবিনি। বিয়ের সময় তাকে স্বর্ণালংকারও দিয়েছিলাম।
এখন সবকিছু মিলিয়ে আমি ভেঙে পড়েছি।”
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, এ ঘটনায় করা মামলায় এমদাদুল হক অরচন ও সুমি আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।





