Monday, 5 October 2026
শিরোনাম
জাতীয়

মুচলেকা দিয়ে জামিন পেলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন

• • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
মুচলেকা দিয়ে জামিন পেলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন
ছবি সংগৃহিত

রাজধানীর ইসিবি চত্বরে ‘নিউগিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেড’-এর প্রকল্প ভাঙচুর, লুটপাট, চুরির মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ শুনানি শেষে দুই হাজার টাকা মুচলেকায় এই জামিন মঞ্জুর করেন।

 

সোমবার (৫ অক্টোবর) ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।

 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, তিন দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল রবিবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ওইদিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পুলিশ পরিদর্শক জেহাদ হোসেন তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। এসময় আসামিপক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবুল কালাম খান জামিন চেয়ে প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালত আগামী ধার্য তারিখ ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন।

 

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুর পৌনে ৩টার দিকে রমনা থানার সেগুনবাগিচার একটি বাসা থেকে মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন গত ১ অক্টোবর আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন দক্ষিন মানিকদীস্থ ইনসিভি চত্বর নিউগিনী প্রোপার্টিজের ক্রয়কৃত জমির উপর নির্মিত নিউগিনী প্রোপার্টিজ লিমিটেডের সম্পত্তি জবর দখলসহ নানা রকম সন্ত্রাস ও ত্রাস সৃষ্টির লিপ্ত রয়েছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১১ টা ২০ মিনিটের দিকে মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম তার প্রজেক্টে অবস্থান করছিলেন। এসময় আসামিরা পূর্ব শত্রুতার জেরে আসামিরা অস্ত্র-শস্ত্রসহ শাবল, রিভালবার, চাপাতি, রামদা, ছোরা, রড, লাঠিসোটা নিয়ে বেআইনী জনতাবদ্ধে তার প্রজেক্টে অনধিকার প্রবেশ করেন। এসময় ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। তখন ঘটনাস্থলে থাকা লেবার, সিকিউরিটি গার্ডরা আতঙ্কে ছুটাছুটি করতে থাকে এবং বাদীও প্রাণভয়ে নির্মানাধীন ভেতরে আশ্রয় নেন। আসামিরা নির্মানাধীন ভবনের সাইড ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজকে মারধর করে নীলাফোলা জখম করেন। আবুল কাসেম রিভালবারের মাথা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে পারভেজের মাথার মাঝ বরাবর আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আসামি বাবুল ছোরা দিয়ে তার ডান পায়ের হাটু নিচে অংশে এবং তার বাম হাত ও পিঠে কোপ মেরে রক্তাক্ত জখম করেন। আসামি গোলাম মহিউদ্দিন তার পকেটে থাকা নগদ সাত হাজার টাকা নিয়ে যায়। পারভেজকে বাঁচাতে প্রজেক্টের সিকিউরিটি গার্ড সৈয়দ নজরুল ইসলাম এগিয়ে আসলে আসামিরা তাকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করেন। আসামি শাহিনুজ্জামান তার হাতে থাকা সিকিউরিটির কাজে ব্যবহৃত ওয়ারলেস সেট নিয়ে যায়। আসামি মতিউর ও মজিবুর সিকিউরিটি গার্ড সৈয়দ নজরুল ইসলামের দুই হাজার টাকা এবং একটি বাটন মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আসামি নুরুল ও মিজানুর প্রজেক্টের মেইন গেইটে ১০ রাউন্ড গুলি করে এবং লোহার গেইট, থাইগ্লাস, কেচি গেইট ভেঙে ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করেন। আসামিরা বাদীর প্রজেক্টের অফিস রুমে প্রবেশ করে চারটি কম্পিউটারের মনিটর, চারটি ডিভিবক্স, একটি এলইডি টিভি, সাতটি বিভিন্ন ব্রান্ডের ল্যাপটপ, চারটি কাঠের টেবিল, আটটি চেয়ার, একটি কাঠের আলমারী ভাঙচুর করেন। এতে আরও ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। আসামিরা অফিস রুমের লকার ভেঙ্গে নির্মাণ সামগ্রী ক্রয়ের জন্য রাখা নগদ ২৫ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।

 

আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্মানাধীন ভবনের সাইডে রাখা ২০ লাখ টাকার রড, চার লাখ টাকার স্কুটার নিয়ে যায়। ৫৫ লাখ টাকার কয়েল তার, এক লাখ টাকা মূল্যের পানির পাম্প, এক লাখ ৮০ হাজার টাকার নির্মাণ সামগ্রী ছাদে উঠানোর রফুস, তিন লাখ ২০ হাজার টাকার ল্যাপটপ ও কম্পিউটার, ৭৫ হাজার টাকার সিসি ক্যামেরার ডিভিআর, মনিটর ও ৭০ হাজার টাকার সিসি ক্যামেরার ক্ষতি করে। এছাড়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদির স্টুডিওতেও অনধিকার প্রবেশ করে দুটি টিভি, এসিসহ অন্যান্য দামী ফার্নিচার ভাঙচুর করে ৯৫ লাখ টাকার ক্ষতি করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় মো. সাইফুল ইসলাম ইমন বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। এতে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৫০/২০০ জনকে আসামি করেন।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।