৭ম শ্রেণী পড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বার ঘটনায় করা মামলায় সৎ বাবা জামাল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ২০২৩ সালে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকার ঘটনাটির মামলার রায় আজ মঙ্গলবার দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন। একই সঙ্গে তার পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেন। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারি পঙ্কজ কুমার গোমেজ এ তথ্য জানান।
রায়ের পর্যবেক্ষণের বিচারক বলেছেন, জামাল হোসেন ১৩ বছরের মেয়েকে জোর করে ধর্ষণ করেছেন। সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আদালত তার কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হবে যদি এই অপরাধের জন্য যথোপযুক্ত শাস্তি না দেওয়া হয়। ঘটনাটি শুধু ভুক্তভোগীর জন্যই দুর্ভাগ্যজনক নয়, ভুক্তভোগী যে সমাজের অন্তর্ভুক্ত, সেই সমাজের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। আদালতের দায়িত্ব সমাজের আর্তনাদে সাড়া দেওয়া এবং এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের জন্য যথাযথ শাস্তি দেওয়া। অভিযুক্ত জামাল হোসেন মেয়েটিকে অমানবিকভাবে ধর্ষণ করে ঘৃণ্য অপরাধ করেছেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, শিশুটি তার মা ও সৎ বাবার সঙ্গে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় থাকেন। তার মা বাসায় না থাকার সুযোগে ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট জামাল হোসেন তাকে ধর্ষণ করে। পরবর্তী সময়ে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং সন্তান জন্ম দেয়। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারী মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের এসআই মোহাম্মদ আলী আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। গত বছরের ২৪ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।





