Sunday, 11 October 2026
শিরোনাম
নজরুল বর্ষ উদযাপনে জামালপুরে নজরুল স্মরণ: আলোচনা ও সংগীতানুষ্ঠানে মুগ্ধ দর্শক-শ্রোতা কুষ্টিয়ায় লালনের আখড়াবাড়ির দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৬ লাখ টাকা কুমারখালীতে ‘দেশাত্মবোধক’ গান প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ মুসল্লিদের ৮ লাখ টাকা নিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ উধাও ইমাম কুমারখালীতে শিক্ষক মনসুর আলীকে অবসরোত্তর সংবর্ধনা সবচেয়ে অকর্মা সন্তানগুলোই সাংবাদিক হয়: সাবেক ছাত্রদল নেতা শেখ হাসিনা ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে দেশে ফিরবেন, তিনি এত বোকা নন: রাশেদ খাঁন কুষ্টিয়ার সাবেক এমপির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা বিকালে আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে হঠাৎ বাসে আগুন
ফিচার

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলো ছড়াচ্ছেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী অভিউল মারুফ

• • পঠিত 466 বার
শেয়ার করুন:
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলো ছড়াচ্ছেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী অভিউল মারুফ
বাংলাদেশি আলোকচিত্রী অভিউল মারুফ-ছবি সংগৃহিত

নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্য ও আলো-ছায়ার শৈল্পিক উপস্থাপনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পাচ্ছেন তরুণ বাংলাদেশি আলোকচিত্রী অভিউল মারুফ। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই তাঁর আলোকচিত্র প্রকাশিত হয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে।

 

নিজস্ব ভাবনা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে প্রকৃতির পরিচিত দৃশ্যকে ভিন্নভাবে তুলে ধরছেন অভিউল মারুফ। তাঁর আলোকচিত্রে প্রকৃতির নীরবতা, ফুলের সূক্ষ্ম গঠন, পাতার টেক্সচার এবং আলো-ছায়ার মেলবন্ধন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রকৃতি, ম্যাক্রো, অ্যাবস্ট্রাক্ট ও আরবান ফটোগ্রাফির পাশাপাশি ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়েও কাজ করছেন তিনি।

 

অভিউল মারুফ জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী। তাঁর জন্ম হবিগঞ্জে। বাবা সেনা কর্মকর্তা হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই সিলেটে বেড়ে ওঠার সুযোগ হয়েছে তাঁর। সিলেটের সবুজ পরিবেশ, পাহাড় ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাঁর আলোকচিত্রের দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

 

সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় মামার সঙ্গে রাতের ছবি তোলার অভিজ্ঞতা থেকে আলোকচিত্রের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় অভিউলের। এক রাতে মামাকে ফোনের ম্যানুয়াল মোড ব্যবহার করে ছবি তুলতে দেখে বিস্মিত হন তিনি। অন্ধকারের দৃশ্য ক্যামেরার পর্দায় দিনের আলোর মতো ফুটে উঠতে দেখে লং-এক্সপোজার ফটোগ্রাফির প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। এরপর থেকে নিয়মিত ছবি তোলা ও বিভিন্ন কৌশল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন।

 

 

অভিউলের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘বোটানিক্যাল সাইলেন্স’ শিরোনামের আলোকচিত্র সিরিজ। প্রকৃতির নীরব উপস্থিতি, ফুলের পাপড়ির গঠন, পাতার সূক্ষ্ম বিবরণ এবং আলো-ছায়ার বৈচিত্র্য এই সিরিজের মূল উপজীব্য। ফুল ও গাছপালাকে কেবল সৌন্দর্যের বিষয় হিসেবে না দেখে তাদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি।

 

 

নিজের কাজের বিষয়ে অভিউল মারুফ বলেন, প্রকৃতির সৌন্দর্য সব সময় চোখে পড়ার মতো হয় না। অনেক সময় ছোট ছোট বিবরণ, স্থিরতা ও নীরবতার মধ্যেই তা লুকিয়ে থাকে। আলো, ছায়া, গঠন ও সূক্ষ্ম বিবরণের মাধ্যমে প্রকৃতির এই নীরব উপস্থিতি তুলে ধরার চেষ্টা করেন তিনি।

 

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁর কাজ প্রকাশিত হয়েছে ল’ওয়েই দ্য লা ফটোগ্রাফি, স্পেকটাকুলাম, আর্থ ডট অর্গ, কলেটারাল, ওয়ালম্যাগ, বায়রন ম্যাগাজিন, বোরড পান্ডা ও ওয়ার্থওয়াইলসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। এ ছাড়া ওয়ালম্যাগ, ওয়ার্থওয়াইল ও গ্ল্যাজআর্টসহ কয়েকটি প্রকাশনায় সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

 

আন্তর্জাতিক প্রকাশনায় কাজ পৌঁছানোর পথটি শুরুতে সহজ ছিল না বলে জানান অভিউল। প্রথম দিকে বিভিন্ন ফটোগ্রাফি ম্যাগাজিনে ছবি জমা দিয়েও তেমন সাড়া পাননি। অনেক ক্ষেত্রে কোনো উত্তরও আসেনি। তবে চেষ্টা অব্যাহত রাখেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতে ‘বোটানিক্যাল সাইলেন্স’ সিরিজটি তৈরির পর তাঁর কাজের প্রতি আন্তর্জাতিক প্রকাশনাগুলোর আগ্রহ বাড়তে শুরু করে। সিরিজটি কলেটারালে জমা দেওয়ার পরদিনই প্রকাশনার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা পান তিনি। পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে তাঁর কাজ প্রকাশিত হয়।

 

অভিউল মনে করেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ প্রকাশিত হওয়া শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এর সঙ্গে দেশের পরিচয়ও জড়িয়ে আছে। নিজের নামের পাশে ‘বাংলাদেশি আলোকচিত্রী’ পরিচয়টি দেখতে তাঁর ভালো লাগে। তাঁর মতে, কাজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচিতি তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া আনন্দের পাশাপাশি দায়িত্ববোধও তৈরি করে।

ছবি সম্পাদনার ক্ষেত্রে সাধারণত স্ন্যাপসিড ব্যবহার করেন অভিউল। তবে সফটওয়্যারের চেয়ে সঠিক আলো, কম্পোজিশন ও উপযুক্ত মুহূর্ত নির্বাচনকে বেশি গুরুত্ব দেন তিনি। ছবি তোলার সময় যে দৃশ্য ও অনুভূতি উপলব্ধি করেন, সম্পাদনার মাধ্যমে তা যথাসম্ভব অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা করেন।

 

মাত্র ১৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ প্রকাশের অভিজ্ঞতা অর্জন করলেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে শেখার বিষয় রয়েছে বলে মনে করেন এই তরুণ আলোকচিত্রী। শুরুতে কোথায় ছবি জমা দিতে হয়, কীভাবে প্রকল্প উপস্থাপন করতে হয় এবং কোন ধরনের কাজ আন্তর্জাতিক প্রকাশনার জন্য উপযুক্ত এসব বিষয়ে নিজেকেই শিখতে হয়েছে তাঁকে।

 

অভিউল মারুফ বলেন, না জানার কারণে থেমে না যাওয়াই ছিল তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিজের কাজের প্রতি বিশ্বাস রেখে চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। প্রত্যাখ্যান ও সাড়া না পাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেও শেখার চেষ্টা করেছেন তিনি।

 

প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্যকে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরার এই প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে চান অভিউল মারুফ। তাঁর লক্ষ্য, পরিচিত প্রাকৃতিক দৃশ্যের ভেতর লুকিয়ে থাকা অচেনা সৌন্দর্য ও অনুভূতিগুলোকে আলোকচিত্রের মাধ্যমে দর্শকের সামনে তুলে ধরা।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।