এ বছর কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার ড্রাম চিমনি ইটভাটা গুলো গুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মোটা অংকের টাকায় জরিমানা করছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। কিন্তু উপজেলার চরসাদিপুর ইউনিয়নের আট ভাটা মালিককে ২০ লক্ষ টাকা জরিমান করলেও গুড়িয়ে দেয়নি প্রশাসন।
তবে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, পদ্মানদীর কারণে চরসাদিপুরে যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক। সেজন্য সেখানে অভিযান চালাতে নানাবিদ সমস্যা হয়ে থাকে। পরিবহনজনিত সমস্যার কারণে গুড়িয়ে দেওয়ার যন্ত্রাংশ বহন করা সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত চর সাদিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালান উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর।
অভিযানে ভাটার বৈধ কাগজপত্রাদি না থাকায়, ফসলি জমি ব্যবহার, কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানোসহ নানাবিদ অপরাধে আট ভাটা মালিককে ২০ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আদালাত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিরুল আরাফাত। এসময় জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী বৃন্দ, র্যাব, পুলিশসহ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
অর্থদণ্ড প্রাপ্ত ভাটা গুলো হলো-এআরবি ব্রিকস, এমএমএ ব্রিকস, এবিসি ব্রিকস, এমএসবি ব্রিকস, কেআরবি ব্রিকস, আরজেডবি ব্রিকস, এসএএন ব্রিকস, এইচ আর বি ব্রিকস।
কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ - পরিচালক মো. আতাউর রহমান মুঠোফোনে বলেন, অবৈধ ভাটা উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন তাঁরা। যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকার কারনে চরসাদিপুরে এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাটা গুড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়না। তবে অবৈধ ভাটা বন্ধের জন্য মালিকদের সাথে আলাপ আলোচনা করছেন বলে জানান তিনি।
এব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), মো. আমিরুল আরাফাত বলেন, বৈধ কাগজপত্রাদি না থাকায়, কৃষি জমি ব্যবহার, কয়লার বদলে কাঠ পোড়ানো সহ নানাবিদ অপরাধের দায়ে আট ভাটা মালিককে ২০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সময় স্বল্পতার কারণে সব গুলো ভাটায় অভিযান চালানো যায়নি। পর্যায়ক্রমে সব অবৈধ ভাটায় অভিযান চালানো হবে বলে জানান তিনি।
এবছর উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নসহ অন্যান্য এলাকার অবৈধ ভাটা গুলো গুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি জরিমানা করা হয়েছে। তাহলে চরসাদিপুরে কেন শুধু জনিমানা আদায় করা হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে সহকারী কমিশার (ভূমি) বলেন, পদ্মানদীর কারনে চরসাদিপুরে যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক।
সেজন্য সেখানে অভিযান চালাতে নানাবিদ সমস্যা হয়ে থাকে। পরিবহণজনিত সমস্যার কারণে গুড়িয়ে দেওয়ার যন্ত্রাংশ বহন করা সম্ভব হয়নি। ফলে অবৈধ ভাটা গুলো গুড়িয়ে দেওয়া যায়নি। তবে ভাটা বন্ধের জন্য কঠোর সতর্কীকরণ করা হয়েছে মালিকদের বলে জানান তিনি।





