জামালপুরে স্বামীর সাথে পরকীয়া প্রেমের সন্দেহে প্রতিবেশী এক নারীকে ডেকে নিয়ে আগুনের ছ্যাকা দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সুমী বেগম নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ নির্যাতনে প্রতিবেশী ওই নারীর মুখের একাংশ ঝলছে গেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) বিকাল ৪টা দিকে জামালপুর শহরের পশ্চিম ফুলবাড়িয়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মাতাব্বররা মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিার রাতে ওই নারী জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
নির্যাতনে গুরুতর আহত হওয়া গৃহবধু পুষ্প বেগম (৩০) পশ্চিম ফুলবাড়িয়া এলাকায় একটি ভাড়াটিয়া বাসায় থাকেন। তার স্বামী ময়েন উদ্দিন একজন হোটেল শ্রমিক।
অভিযুক্ত সুমি বেগম ওই এলাকার মো.শামিম মিয়ার স্ত্রী। পুষ্প বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রতিবেশী শামীম কসাইয়ের স্ত্রী সুমি বেগম বুধবার দুপুরে আমাকে ডেকে নিয়ে তার বাড়ীতে নিয়ে যান। বাড়িতে যাওয়ার পরেই
অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে সুমী। একপর্যায়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে গ্যাসের চুলায় ভাজাকাঠি গরম করে আমার গালে ছেকা দেয় এবং মারধর করে। আমার ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে আমাকে উদ্ধার করে।’
তিনি আরও জানান, সুমি বেগম সন্দেহ করেন তার স্বামীর সাথে আমার সম্পর্ক রয়েছে এবং তার স্বামীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলারও অভিযোগ আনে। কিন্তু আমি কোন মোবাইল ফোনই ব্যবহার করি না তার স্বামীর সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই। এ নিয়ে স্থানীয় মাতাব্বর ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর আগামী রবিবার বসে মীমাংসা করে দিবে বলে আমাদের আশ্বাস দেন। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে সুমি বেগমের স্বামী শামীম মিয়া বলেন,‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। আমার বাবা অসুস্থ থাকায় তখন আমি বাসায় ছিলাম না। তবে এই ঘটনায় স্থানীয় মাতাব্বর ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর বসে মীমাংসা করে দিবে বলে দায়িত্ব নিয়েছে। পুষ্প বেগমের সাথে কোন সম্পর্ক আছে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার সাথে ওনার কোন সম্পর্ক নেই। তাকে প্রতিবেশী হিসেবেই আমি চিনি।’
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলী আজাদ মোল্লা জানান, গৃহবধুকে ভাজাকাঠি দিয়ে ছ্যাকা দেওয়ার ঘটনা শুনেছি। আমাকে মীমাংসার কথা বলা হয়েছিল।
জামালপুর হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্কের সভাপতি মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, এভাবে একজন মানুষের মুখ ঝছে দেয়ার মত কাজ কেউ করতে পারে না। এটা একটি আইন বিরোধী কাজ এবং মানবাধীকার লঙ্ঘন। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।





