Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন

admin • 30 Oct 2023, 07:35 AM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন

বান্দরবান,খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মাঝে পালিত হয় প্রবারণা পূর্ণমা। প্রতিবারের ন্যায় এবারেও বান্দরবান জেলার বিহার গুলোতে উৎসব মূখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে প্রবারণা পূর্ণিমা।

 

মূলত পৃথিবীর সকল প্রাণী জগতের মঙ্গল কামনায়,সকল অশুভ শক্তিকে বর্জন করে শুভ শক্তিকে গ্রহণ ও প্রার্থনায় বছরের এই দিনে বিহারে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে ও ফানুস উড়িয়ে দিনটি উৎযাপন করে বৌদ্ব ধর্মের অনুসারিরা। ফানুস ও মোমবাতির আলোয় পুরো পাহাড় জনপথ জুড়ে আলোকিত হয়ে উঠেছে।

 

প্রবারণার মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে ভিক্ষুদের মধ্যে সংঘটিত ক্ষুদ্রাণুক্ষুদ্র অপরাধ স্বীকার করে ভবিষ্যতে ত্রুটিমুক্ত থাকার অঙ্গীকার করা। কাজেই প্রবারণার মূল প্রতিপাদ্য বিষয়কে সংক্ষেপে বলা যায় অন্যায় বা অকুশলকে বর্জন এবং ন্যায় বা কুশলকে বরণ করার শপথ। মূলত এটি ভিক্ষুসংঘের একটি বিনয়িক অবশ্যই আচরণীয় বিধান।

 

প্রবারণা বা পালি ‘পবারণা’ শব্দের অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক ও তাৎপর্য মণ্ডিত। পালি আভিধানিক অর্থে নিমন্ত্রণ, আহ্বান, মিনতি, অনুরোধ, নিষেধ, ত্যাগ, শেষ, সমাপ্তি, ভিক্ষুদের বর্ষাবাস পরিসমাপ্তি, বর্ষাবাস ত্যাগ, বর্ষাবাস ত্যাগের কার্য অথবা শিষ্টাচার, বিধি ইত্যাদি বোঝায়। তৃপ্তি বা সন্তুষ্টির বিষয়, ক্ষতিপূরণ, প্রায়শ্চিত্ত, ঋণ পরিশোধ অর্থেও প্রবারণা শব্দ প্রযোজ্য হয়। আবার দীর্ঘনিকায়ের অর্থকথা অনুযায়ী প্রবারণা উৎসব হিসেবেও পরিগণিত।

 

প্রবারণা শব্দটি পালি সাহিত্যে ব্যাপক অর্থে প্রযোজ্য। এটির অন্য অর্থ প্রকৃষ্টরূপে বরণ করা, অভীষ্ট দান, বারণ বা নিবারণ করা বোঝায়। বৌদ্ধ বিনয় বিধান মতে প্রবারণ বা প্রবারণা অর্থে ত্রুটি বা নৈতিক স্খলন নির্দেশ করার জন্য সনির্বন্ধ অনুরোধ জ্ঞাপন বোঝায়। অতএব, প্রবারণা বলতে অসত্য, অন্যায়, অপরাধমূলক কর্ম বর্জন করে সত্য, ন্যায় এবং কুশল কর্মকে বরণ নির্দেশ করে। প্রবারণা পারস্পরিক মিলন উৎসবও বটে। পূর্বকৃত সব ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে পারস্পরিক মিলন ঘটে প্রাবারণার মাধ্যমে।

 

মূলত প্রবারণা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য অবশ্য করণীয় একটি বিনয়িক বিধান। কথিত আছে, তথাগত বুদ্ধ শ্রাবস্তির জেতবনে অনাথপিণ্ডিকের আরামে অবস্থানকালে পারস্পরিক প্রগাঢ় মিত্রভাবসম্পন্ন বহুসংখ্যক ভিক্ষু কোশল জনপদের এক আবাসে বর্ষাবাস করেছিলেন। বর্ষাবাস উদযাপনের সময় তিনমাস কোনো ভিক্ষু অপর কোনো ভিক্ষুর সঙ্গে বাক্যালাপে বিরত ছিলেন। বর্ষাবাস শেষে তাঁরা শ্রাবস্তিতে বুদ্ধের কাছে উপনীত হয়ে অভিবাদনান্তে একান্তে উপবেশন করলে বুদ্ধ তাঁদের বর্ষাবাস নিরুপদ্রবে সম্পাদিত হয়েছে কিনা জানতে চাইলেন।

 

উত্তরে ভিক্ষুগণ জানালেন যে, তাঁরা পরস্পর বাক্যালাপে বিরত থেকে নিরুদ্বেগে, নির্বিবাদে, নির্বিঘ্নে অতি আনন্দে বর্ষাবাস সম্পন্ন করেছেন। বুদ্ধ তাঁদের কথায় তুষ্ট হতে পারলেন না। তিনি বললেন, কোনো ভিক্ষু তীর্থিকগণের ন্যায় মৌন ব্রত পালন করতে পারবে না।

 

অনন্তর তিনি আদেশ (অনুজ্ঞা) প্রদান করলেন, ‘হে ভিক্ষুগণ, আমি অনুজ্ঞা প্রদান করছি- বর্ষাবাসিক ভিক্ষুগণ দৃষ্ট, শ্রুত অথবা আশঙ্কিত ত্রুটি বিষয়ে প্রবারণা করবে। তা তোমাদের পরস্পরের মধ্যে অনুকূলতা অপরাধ হতে উদ্ধার পাবার উপায় ও নিয়মানুবর্তিতা।’

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।