Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

রেস্তরায় ভাতের সঙ্গে মদ না পেয়ে পুলিশ কর্মকর্তার তাণ্ডব

admin • 17 Apr 2024, 09:30 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
রেস্তরায় ভাতের সঙ্গে মদ না পেয়ে পুলিশ কর্মকর্তার তাণ্ডব

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মংনেথোয়াই ও তার স্ত্রী ভাতের সঙ্গে মদ চেয়ে না পেয়ে বান্দরবান শহরের একটি রেস্তরায় হামলা চালিয়েছেন। এতে রেস্তরার মালিকের স্ত্রী, শিশুসহ পাঁচজন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার(১৬ এপ্রিল) রাতে বান্দরবান শহরের মধ্যমপাড়া এলাকার তোহজাহ রেস্তরায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, মঙ্গলবার ছিল বর্ষবরণ উৎসব সাংগ্রাইয়ের দ্বিতীয় দিন। কুমিল্লার এএসপি মংনিথোয়াই তার স্ত্রী ও কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে তোহজাহ রেস্তরায় ঢুকে ভাতের সঙ্গে মদ দিতে বলেন। রেস্তরার মালিক শোঁয়েসাই মং তাদের ভাত দিতে দেরি হবে এবং মদ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তাতে চটে যান এএসপি ও তার স্ত্রী।

এ সময় এএসপির স্ত্রী বলেন, ‘আমি এএসপির বউ, মদ এখনই দিতে হবে। না হলে দোকান বন্ধ করে দিব’ এই কথা বলার পর তারা হইচই শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা রেস্তরার মালিক ও তার স্ত্রীকে মারধর শুরু করেন। এ সময় রেস্তরার মালিকের স্ত্রীর কোলে থাকা শিশুটি মাটিতে পড়ে গিয়ে আহত হয়। মারধর থামাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন জখম হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাতেই বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে পুলিশ গিয়ে রেস্তরাটি বন্ধ করে দেয়।

পুলিশ-সুপার-এএসপি-মংনেথোয়াই। ছবি সংগৃহিত

এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন- রেস্তরার মালিক শোঁয়েসাই মং (৩২), তার স্ত্রী উম্যাশৈ (২৫), তাদের দুই বছরের সন্তান উখ্যাই, ভাই খিংসাই মং (৩৬) ও মা পাইনুচিং (৬৫)।

বান্দরবান সদর হাসপাতালের চিকিৎসক দিদার বলেন, আহতদের শরীরে দাঁতের কামড়ের দাগ রয়েছে। তাছাড়া হাত-মাথাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, আমরা তাদের চিকিৎসা দিয়েছি।

এ ঘটনা ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বান্দরবানে আলোচনার ঝড় ওঠে। অনেকে এটাকে একজন পুলিশ কর্মকর্তার ক্ষমতার অপব্যবহার আখ্যা দিয়ে এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এদিকে এ ঘটনায় বুধবার (১৭ এপ্রিল) সকালে দুই পক্ষকে নিয়ে বসে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। এ বিষয়ে বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমী দাবি করেন, গতকালের অনাকাঙ্খিত ঘটনাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে দুই পক্ষকে নিয়ে বসে সমাধান করা হয়েছে।

এদিকে রেস্তরার মালিকের ভাই জসাই মারমা জানান, সকালে মীমাংসার জন্য জেলা পরিষদে বসলেও আমরা সঠিক বিচার পায়নি, তাই আমরা আদালতে এ ঘটনার ন্যায় বিচার চাইবো। আমরা চাই দোষীদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।