Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

মেয়াদোত্তীর্ণ ট্রাস্টি কমিটি দিয়েই চলছে রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম

admin • 02 Dec 2024, 09:54 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
মেয়াদোত্তীর্ণ ট্রাস্টি কমিটি দিয়েই চলছে রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম

কুষ্টিয়া রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্ট দলিল অনুযায়ি প্রতি তিন বছর অন্তর ভাইস-চেয়ারম্যান, কোষাধ্যক্ষ ও সদস্য সচিব পদ পরিবর্তন বাধ্যতামুলক। কিন্তু ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম ভাইস চ্যান্সেলরের সাথে যোগসাজশে ভাইস-চেয়ারম্যান পদটি অবৈধভাবে কুক্ষিগত করে রাখার জন্য নয় বছরেও নির্বাচন দেননি। বর্তমানে গবেষণার কারণে আমেরিকা নর্থ ডাকোতো বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করলেও কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে অনৈতিকভাবে অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছেন।

 

ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা জানান, ভাইস চেয়ারম্যানের সাথে আঁতাত করে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহান আলী সম্প্রতি বিওটির সদস্যদের সাথে আলোচনা না করে মেয়াদ উত্তীর্ণ পূর্বের প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার প্যানেল পরিবর্তন করেননি। প্রতিবছর সরকারি নিয়মানুযায়ি অডিট কার্যক্রম সম্পন্ন করার বিধান থাকলেও ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের অডিট কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি।

 

ভাইস চেয়ারম্যান নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শাজাহান আলীর সহযোগিতায় শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগের পূর্বেই অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রফেসর ড. মোঃ শহীদুর রহমান ও এস. এম হাসিবুর রশিদ তামিমকে দিয়ে অনুগত প্রশাসন প্রার্থীর সাথে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করে তাদের হয়ে কাজ করার শর্তে এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে পছন্দের প্রার্থী নির্বাচন করেন।

 

তাদের বিরুদ্ধে অর্থ-আত্মসাৎ, অপরাজনীতি করাসহ নানা বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে। কোন শিক্ষক- কর্মকর্তা তার অন্যায় নির্দেশনা অনুসরণ না করে স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাইলে ভাইস-চেয়ারম্যানের নির্দেশে প্রফেসর ড. মোঃ শহীদুর রহমান ও এস. এম হাসিবুর রশিদ তামিম নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তাদেরকে স্বেচ্ছায় চাকুরী ছাড়তে বাধ্য করেন। ।

 

এছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যানের অনুগত না হলে শিক্ষকদের যথাযথ যোগ্যতা থাকলেও তাদেরকে স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতি দেয়া হয় না। এবং একাডেমিক কার্যকাল কিংবা পরবর্তীতে কিছু কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলেও তাদেরকে স্থায়ীকরণ করা হচ্ছে না। ভাইস চেয়ারম্যান তার শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ সকল নিয়োগ, চাকুরিচ্যুতি, নিজের পছন্দের শিক্ষার্থীদের অল্প টাকায় ভর্তি, অবকাঠামো ও অন্যান্য ক্রয় বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন। সহধর্মিনী ড. মোছাঃ ইসমত আরা খাতুন প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকায় এবং তার অনুগত প্রশাসনকে ব্যবহার করে নিজস্ব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন। যেকারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিকসহ অন্যান্য শৃঙ্খলা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

 

প্রতি বিভাগে তার অনুসারি শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে অন্যান্য শিক্ষকদের নিপীড়ন চালানো হয়। ইউজিসির বিধি মোতাবেক যথাযথ যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও অর্থাৎ সকল শিক্ষান্তরে তৃতীয় বিভাগধারী মোহাম্মদ আলীকে প্রফেসর ও বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। একাডেমিক শিক্ষকতা ছাড়াই অবৈধভাবে মোঃ জাহিদুল আমিনকে প্রফেসর ও কৃষি অনুষদের ডিন হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

 

অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকদের প্রতি বছর নবায়নের বিধি থাকলেও অবৈধভাবে কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর মোঃ শহীদুর রহমানকে তার যতদিন ইচ্ছে ততদিন কর্মরত থাকবে মর্মে নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও প্রকাশনা না থাকলেও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিবাদেই ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর মোঃ নূর উদ্দীন আহমেদের সুপারিশে তার শ্যালক মোঃ সাইফুল হককে সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিয়োগ দেয়া হয়।

 

প্রফেসর মোঃ নূর উদ্দীন আহমেদ বিভাগীয় শিক্ষকদের সাথে প্রায় অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। সম্প্রতি বিভাগীয় শিক্ষক মোঃ আব্দুল জলিলকে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয়। ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক নূর উদ্দীন ও মোঃ সাইফুল হকের মাধ্যমে বিভাগের কয়েকজন শিক্ষককে চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে। বিভাগের কোঅর্ডিনেটর নিয়োগে সিনিয়রিটি নয়, আনুগত্য প্রাধান্য দেয়া হয়। এক্ষেত্রে বিভাগে অভিজ্ঞ শিক্ষক থাকলেও অনুগত বিবেচনায় নতুনভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষককেও কোঅর্ডিনেটর দেয়া হয়েছে।

 

ভাইস চেয়ারম্যানের স্ত্রী রেজিস্ট্রার ড. মোছাঃ ইসমত আরা খাতুন সহকারী অধ্যাপক (ইতিহাস বিষয়ক) জিডি কোর্স নেয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে পাঠদান করান না। তার অনুগত শিক্ষক তামিমের মাধ্যমে তার কোর্সে পাঠদান করানো হয়। রেজিস্ট্রারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে নিজের ইচ্ছে মতো অফিস করেন। বিওটির অনুমতি ব্যতীত বর্তমানে স্ব-বেতনে তার স্বামী ভাইস চেয়ারম্যানের সাথে বর্তমানে আমেরিকায় অবস্থান করছেন তিনি। হাজারো অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কারণে রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

   

ট্রাস্টিজ বোর্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পরও দীর্ঘ বছর কেন নির্বাচন দেয়া হয়নি এমন প্রশ্নে রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শাজাহান আলীকে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।