জামালপুরে কারিমুল ইসলাম (১৮) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী বাবা-মায়ের কাছে দোয়া নিতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (২৮ জুন) বিকেলে জামালপুর শহরের মির্জা আজম চত্বর সংলগ্ন এলাকায়
সিএনজি ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে পরীক্ষার্থী কারিমুলকে। মৃত্যুর পরে পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় হাসপাতালের মর্গে পড়ে থাকে ওই পরীক্ষার্থীর মরদেহ। তবে, নিহতের পরিবারের লোকজন মৃত্যুর বিষয়টি আজ শনিবার সকালে সাড়ে ৯ টা দিকে ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারে।
নিহত শিক্ষার্থী কারিমুল ইসলাম জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গুঠাইল এলাকার ব্যবসায়ী সামিউল হকের ছেলে। সে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ, ব্যবসায় শাখা এবার থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিতেন।
পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা যায়,' শিক্ষার্থী কারিমুল ইসলাম তিনি জামালপুর শহরের পশ্চিম নয়াপাড়া এলাকার একটি মেসে থেকে পড়াশোনা করতো। সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিতো। গতকাল শুক্রবার বিকালে জামালপুর শহর থেকে বাবা মায়ের কাছে দোয়া নেওয়ার জন্য ইসলামপুরের নিজ বাড়িতে যাচ্ছিল। যাওয়ার পথে শহরের মির্জা আজম চত্বরে পাশে পৌঁছালে ট্রাক ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হয় শিক্ষার্থী কারিমুল ইসলাম। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে অজ্ঞতানামা পরিচয়ে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষণা করেন।
তার পরিচয় না পাওয়া গেলে তার ছবি তুলে পরিচয় পাওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম তার আইডি থেকে পোস্ট করলে আজ সকাল সাড়ে ৯ টা দিকে নিহতের পরিবার জানতে পারে।
নিহত শিক্ষার্থীর বন্ধুরা জানান,'আগামীকাল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। নয়াপাড়া মেসে থেকে বাড়িতে বাবা মায়ের কাছে দোয়া নিতে যাচ্ছিল। শহরের মির্জা আজম চত্বর থেকে একটু সামানে পৌঁছালে ট্রাক ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত হয়। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার। সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি আমরা কেউ জানতে পারিনি। এটি সবচেয়ে আমাদের বড় কষ্টের বিষয়। আজ সকালে আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি।
এ বিষয়ে জামালপুর অনলাইন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, গতকাল ফেসবুকে আমার স্ট্যটাসের প্রেক্ষিতে এবং অসংখ্য জনের শেয়ারের কারনে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ছেলেটির সন্ধান পাওয়া গেছে। আজ সকালে জামালপুর জেনারেল হাসপতালে আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ এবং আমি জেলা প্রশাসক কে বলে করে নিহতের বাবার আবেদনের মাধ্যমে পোস্টমর্টেম ব্যতিত লাশ দাফনের এবং হাসপাতাল থেকে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। এভাবে সড়কে আর কত প্রাণ ঝরলে সড়ক দূর্ঘটনা বন্ধ হবে?, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেয়া, ট্রাফিক ব্যবস্থা দূর্বল থাকায় এবং চালকদের বেপোরোয়া গাড়ি চালোনো নিয়ন্ত্রণ না করার ফলে এভাবে প্রতিদিন অসংখ্য প্রাণ ঝরছে সড়কে। এ ব্যপারে প্রশাসন আরো কঠোর না হলে এ মৃত্যু স্রোত ঠেকানো যাবে না।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শামীম ইফতেখার বলেন,'অজ্ঞাত পরিচয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে তার পরিচয় পাওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিহতের ছবিসহ পোস্ট করা হয়। তার পরিচয় পাওয়া গিয়েছে তিনি সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের শিক্ষার্থী।এ বিষয়ে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. হারুনর অর রশিদ বলেন,'ছেলেটি খুবই মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল, মেসে থেকে পড়াশোনা করতো। গতকাল মেসে থেকে বাড়িতে দোয়া নিতে যাচ্ছিল। যাওয়ার পথে এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার বিষয়টি আজ সকালে জানতে পেয়েই হাসপাতালে এসেছি।





