Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

বশেফমুবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে রাতভর নির্যাতন,অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

admin • 05 Sep 2024, 08:46 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
বশেফমুবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে রাতভর নির্যাতন,অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

জামালপুরের মেলান্দহে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেফমুবিপ্রবি) মির্জা আজম হলে গেস্ট রুমে ফাহাদ আহমেদ নামে এক শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে রাতভর মানসিক নির্যাতন করার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এর আগে মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ওই শিক্ষার্থীকে মানসিক নির্যাতন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র কিছু শিক্ষার্থী। নির্যাতনের শিকার হয়ে শিক্ষার্থী ফাহাদ আহমেদ জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাঁকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়।

মানববন্ধনে সিএসই বিভাগের ২য় বর্ষের ফাইজুর রহমান ফাহিমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ফিশারিজ বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসির আহমেদ, র‌্যাগিং এর শিকার সিএসই বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল আহাদ (ফাহাদ) প্রমুখ।

এসময় শিক্ষার্থীরা তিনটি দাবি জানান,' বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক নিয়ম অনুসারে র‍্যাগিং ও বুলিং-এর শাস্তি (নূন্যতম এক সেমিস্টারের পরীক্ষা দিতে পারবে না। অভিযুক্তদের মুচলেকা দিতে হবে ক্যাম্পাসে যদি ভবিষ্যতে এমন কর্মকান্ডে যুক্ত হয় তাহলে ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে এবং হল থেকে অভিযুক্তদের বহিষ্কার করতে হবে।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা আরও জানান,'বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। ফাহাদ আহমেদকে হলের গেস্ট রুমে ডেকে নিয়ে কিছু সিনিয়র শিক্ষার্থীরা রাতভর নির্যাতন করে। তাঁদের নির্যাতন সইতে না পেয়ে এক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ফাহাদ আহমেদ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে সিনিয়র কয়েকজন ওই শিক্ষার্থীকে তাঁর রুমে ফেলে রেখে চলে যান। পরে তাঁর রুমমেট ও সহপাঠীরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়,' ৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে দশটার দিকে হলে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ব্যাচের ও তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আচার-আচরণ ও ব্যবহার বৈশিষ্ট্য নিয়ে একটি মিটিং ডাকেন। পরবর্তীতে চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মিটিংয়ে ডাকা হয়। পরে সিনিয়র শিক্ষার্থীরা নানান ধরনের কথাবার্তা বলতে থাকেন। এক পর্যায়ে নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী প্রতিবাদ করেন। পরে ওই ঘটনায় নির্যাতিত শিক্ষার্থী ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা সিনিয়র শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে সমঝোতা হন।

পরে রাত ২টা দিকে সিনিয়র শিক্ষার্থী অপি, আদর ও সৈকতের নির্দেশে হলের গেস্ট রুমে (১০৫ নম্বর) নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী ফাহাদ আহমেদ কে ডাকা হয়। পরে রাতভর মানসিক নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে ভোর রাতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী ফাহাদ আহমেদ। পরে তাঁর সহপাঠীরা উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

অভিযুক্ত সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী আশরাফুর রহমান আদর বলেন,'আমার বিষয়ে যে অভিযোগ গুলো আনা হয়েছে তা মিথ্যা। আমাদের গোপন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। যে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে তাঁর অন্য সমস্যায় অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল। অভিযুক্ত মেহরাব হোসাইন অপি বলেন,'আমরা সিনিয়র জুনিয়র একসাথে থাকি বিভিন্ন কারণে মনমালিন্য হতে পারে এমন একটা বিষয়ে আমরা সিনিয়র জুনিয়র মতবিনিময় করেছিলাম। সেদিন রাতে না ঘুমানোর কারণে অজ্ঞান হয়ে যায়। তারপর আমরা তাঁর মুখে পানি দিয়ে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করি।'

মানববন্ধন শেষে উক্ত তিন দাবিতে বুলিং ও র‍্যাগিং কমিটির আহ্বায়ক ফিশারিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মৌসুমী আক্তারের নিকট আবেদন করেন।

এই ঘটনায় জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আব্দুস ছাত্তার 'আমি একটি মিটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন বলে বলে মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন৷

এদিকে ৫ আগষ্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা পদত্যাগ করার পরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য , রেজিস্ট্রার সহ দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা এক এক করে পদত্যাগ করেন। এর পরেই থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম পরিচালনা প্রায় বন্ধের পথে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।