সামান্য বৃষ্টিতেই পানির নিচে তলিয়ে যায় পুরো এলাকা। ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে, নষ্ট হয় আসবাবপত্র ও গৃহস্থালির সামগ্রী। ড্রেনেজ ব্যবস্থার সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি এবং চলাচলের উপযোগী রাস্তা না থাকায় রেললাইনের পাড় ধরেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করতে হয় এলাকাবাসীকে। পৌরসভার বাসিন্দা হয়েও দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চান জামালপুর শহরের শেখেরভিটা রেলক্রসিং (উত্তর) এলাকার বাসিন্দারা ।
তাদের অভিযোগ, পৌর নাগরিক হয়েও তারা পান না ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা। এলাকায় বৈদ্যুতিক সংযোগ থাকলেও নেই কোনো সড়কবাতি। ফলে রাত নামলেই পুরো এলাকা অন্ধকারে ছেয়ে যায়। একবিংশ শতাব্দীতে এসেও তারা যেন মধ্যযুগীয় দুর্ভোগে বসবাস করছেন। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকাটি যেন ‘বাতির নিচে অন্ধকার’-এর প্রকৃত উদাহরণ।
জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, রাস্তা নির্মাণ ও সড়কবাতি সংযোজনের দাবিতে সোমবার (৪ আগস্ট) বিকেলে এলাকাবাসীর উদ্যোগে শেখেরভিটা রেলক্রসিং এলাকায় এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মানবাধিকারকর্মী ও জামালপুর অনলাইন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংগীতশিল্পী এম আর মুন্না, জোসনা আক্তার, আতর আলীসহ অনেকে। বক্তব্যে জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, “শেখেরভিটা একটি জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।
এই এলাকার বাসিন্দারা নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করেন, অথচ বছরের পর বছর তারা অবর্ণনীয় দুর্ভোগে ভুগছেন। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়, শিশুদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়, মসজিদে যেতেও কষ্ট হয় মুসল্লিদের। বিষাক্ত সাপ-পোকামাকড়ের ভয়ে শিশু-বৃদ্ধরা আতঙ্কে থাকেন।”
তিনি আরও বলেন, “এখানে অপরিকল্পিতভাবে একটি সিএনজি স্টেশন গড়ে উঠেছে, যার কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
পুরনো কালভার্টগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় পানি বের হওয়ার পথ নেই। এ অবস্থায় একটি দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করে শক্তিশালী ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা ও রেলের জায়গা দখলমুক্ত করে পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে রাস্তা নির্মাণ এবং সড়কবাতি স্থাপনও জরুরি হয়ে পড়েছে।”
সংগীতশিল্পী ও স্থানীয় বাসিন্দা এম আর মুন্না বলেন, “এই দুর্ভোগ ১৫-২০ বছরের পুরনো। আমরা বহুবার পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। আমরা সবধরনের পৌরকর দিই, কিন্তু নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বৈষম্যের এই চিত্র আমরা আর মেনে নেব না। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আমরা রেল ও সড়কপথ অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবো।” মানববন্ধনে উপস্থিত এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।





