Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

ফেসবুকে মহানবীকে (সা.) নিয়ে কটূক্তি, চাটমোহরে মন্দির ভাঙচুর

admin • 11 Nov 2024, 08:32 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
ফেসবুকে মহানবীকে (সা.) নিয়ে কটূক্তি, চাটমোহরে মন্দির ভাঙচুর

ফেসবুকে মহানবীকে (সা.) নিয়ে প্রশান্ত সরকার নামে এক হিন্দু যুবকের কটূক্তির স্ট্যাটাসের জেরে পাবনার চাটমোহরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১০ নভেম্বর) রাতে উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামের মহাদেব মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত হিন্দু যুবক প্রশান্ত সরকার (৩৬) চাকরির সুবাধে ঢাকায় থাকেন। তিনি বল্লভপুর গ্রামের শ্রী কালা সরকারের ছেলে।

জানা গেছে, প্রশান্ত সরকার নামক ওই যুবক বিভিন্ন সময়ে তার ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম ও মহানবীকে (সা.) নিয়ে কটূক্তি করে আসছিলেন। গত শনিবার (৯ নভেম্বর) বিষয়টি এলাকাবাসীর দৃষ্টিগোচর হলে মুসলিম জনতা প্রশান্তকে আটকের দাবিতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে হান্ডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বাজার প্রদক্ষিণ করে হান্ডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এসে শেষ হয়।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা ইসলাম ধর্ম আবমাননা ও মহানবীকে (সা.) কটূক্তির তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং অভিযুক্ত প্রশান্তর দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। অন্যথায় পরবর্তী কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা। এ সময় ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হলে বাজারের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দোকান পাট বন্ধ করে ফেলেন। এ খবর পেয়ে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেদুয়ানুল হালিম ও ওসি মঞ্জুরুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন।  

ওসি মঞ্জুরুল আলম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিলেও রোববার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এলাকাবাসী ও বিক্ষুব্ধ জনতা ফের বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ মিছিল থেকে কিছু জনতা বল্লভপুর গ্রামের মহাদেব মন্দির ঘর ও দুটি প্রতিমা ভাঙচুর করেন। প্রতিমা ভাঙচুরের দায়ে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। বিক্ষুব্ধ জনতা হান্ডিয়াল পুলিশ ফাঁড়ি ঘিরে রাখেন। চাটমোহর থানা পুলিশ, এএসপি (চাটমোহর সার্কেল), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, ডিবি পুলিশসহ প্রশাসনিক অন্যান্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেদুয়ানুল হালিম জানান, প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এলাকাবাসীকে বিক্ষোভ মিছিল করতে নিষেধ করা সত্ত্বেও এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল থেকে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে কেউ মামলা করেনি।

সোমবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে চাটমোহর থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম জানান, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় কোনো পক্ষই মামলা করেনি। দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলেও সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। বিষয়টির উপর আমরা সবসময় নজর রাখছি।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।