জামালপুরের ইসলামপুরে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান, সচিব, পৌর মেয়র এবং পৌর সচিবের নামে নকল সিল বানিয়ে প্রতারণার মামলায় মো. মিনাল শেখ (২০) নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে ইসলামপুর থানা-পুলিশের দায়ের করা মামলায় আদালতে হাজির করা হলে, জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট বিচারক।
কারাগারে প্রেরণকৃত মিনাল শেখ ইসলামপুর সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি ওই ইউনিয়নের পচাবহলা গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেনের ছেলে।
এর আগের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ইসলামপুর পৌর শহরের থানা ভবন সংলগ্ন জেকি ভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ইসলামপুর থানা-পুলিশ। রাতে উপপরিদর্শক (এসআই) তারেক আহমেদ বাদী হয়ে জনপ্রতিনিধি ও সচিবদের ব্যবহৃত সিল তৈরি করে অবৈধভাবে ব্যবহার করার অপরাধে মিনাল শেখের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১২ ইউপি চেয়ারম্যান-সচিবসহ পৌর মেয়র ও সচিবের নামের নকল সীলমোহর বানিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে মর্মে গোপন খবরের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ইসলামপুর থানা ভবন সংলগ্ন জেকি ভবনে মিনাল কম্পিউটার ও ফটোকপি দোকানে ইসলামপুর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান, সচিব, পৌর মেয়র এবং পৌর সচিবের নামে ১৯টি নকল সিল জব্দ করাসহ ওই দোকানের স্বত্বাধিকারী ছাত্রলীগ নেতা মিনাল শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার বাদী এসআই তারেক আহমেদ বলেন, ‘তিনি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যান-সচিব এবং পৌর মেয়র ও সচিবের নকল সিলমোহর ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আসছিল মিনাল শেখ। টাকার বিনিময়ে সে কখনো ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিব সেজে পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধনে সিলমোহর দেওয়াসহ নিজেই নকল স্বাক্ষরও দিয়েছে। আবার কখনো পৌর মেয়র ও পৌর সচিব সেজেও সিলমোহর দিয়ে বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছে। এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা মিনাল শেখের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।'
ইসলামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুমন তালুকদার বলেন, 'গ্রেপ্তারকৃত মিনাল শেখের দোকান থেকে তার ব্যবহৃত একটি কাঠের চেয়ার জব্দ করা হয়েছে। সিলমোহরসহ চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে ভোটার নিবন্ধন ফরম এবং দুইটি অঙ্গীকার নামার ফটোকপি উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে মিনাল শেখকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন সুমন বলেন, 'স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নামে নকল সিল বানিয়ে ব্যবহার করাটা জঘন্য অপরাধ। অপরাধীদের দলে ঠাঁই নেই। সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক মিনাল শেখের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
ইসলামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নূরে আজাদ ইমরান বলেন, ‘আমি গতকাল বিষয়টা অবগত হওয়ার পরে ওই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ডেকে জানিয়েছি। ওই কম্পিউটারের দোকানে ৩-৪জন কাজ করেন। ওই কাজের সাথে সে সরাসরি জড়িত কি না তা তদন্ত করতে বলেছি। তদন্ত করে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলে দিয়েছি।’





