সাকিব আল হাসান নাহিদ,জামালপুর।
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার মেয়র শেখ মোহাম্মদ নুরুন্নবী অপু ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু পরিবারের এক নারী ও তাঁর ছেলেকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার মেয়র ও তাঁর সহযোগীকে আসামি করে ভুক্তভোগী শ্রীমতি ছবি রানী থানায় অভিযোগ করেছেন।
মারধরের শিকার নারীর নাম শ্রীমতি ছবি রানী (৪৮) ও তাঁর ছেলে শ্রী জগন্নাথ চক্রবর্তী। ওই নারীর স্বামীর নাম স্বর্গীয় জগদিস চন্দ্র চক্রবর্তী। তাঁদের বাড়ি দেওয়ানগঞ্জ পৌর শহরের ঠাকুরবাড়ি এলাকায়।
অভিযোগে সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার লোকজন গত শনিবার দুপুরে শ্রীমতি ছবি রানীর বাড়ির সামনে ময়লা-আর্বজনা ফেলতে যান। প্রায় ওই নারীর বাড়ির সামনে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা-আর্বজনা ফেলা হয়। প্রায় প্রতিদিন ওইসব ময়লা-আর্বজনায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে ওই নারীর পরিবার ও ঠাকুরবাড়ি মহল্লার বাসিন্দারা দুর্গন্ধে বসবাস করা দুরূহ হয়ে দাঁড়ায়। এইসব ময়লার দুর্গন্ধে ওই নারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হয়ে যান। এসব বিষয়ে পৌরসভার মেয়র ও সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা কোন অনুরোধই শুনেননি। পরে গত শনিবার দুপুরে তাঁরা (পৌরসভার লোকজন) ময়লা ফেলতে আসেন। তখন শ্রীমতি ছবি রানী বাড়ির সামনে ময়লা ফেলতে না করেন। পৌরসভার লোকজন শ্রীমতি ছবি রানীর কথা না শুনে, মেয়রকে ফোন করে শ্রীমতি ছবি রানীর বাড়ির সামনে ডেকে আনা হয়। পরে মেয়র অপুর ও তাঁর লোকজন শ্রীমতি ছবি রানী ও তাঁর ছেলেকে মাইরপিট করেন।
শ্রীমতি ছবি রানী বলেন, ঘটনার দিন ময়লা ফেলতে না করা হয়েছিল। সেই অপরাধে মেয়র আমার ছেলেকে মারধর করেছেন। আমার ছেলেকে ঘর থেকে টেনে বের করে মাইরপিট করা হয়। মেয়রের লোক আমাকেও মাইরপিট করেছেন। আর মেয়র আমাকে গালিগালাজ করেছেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
পৌরসভার মেয়র শেখ মোহাম্মদ নুরুন্নবী বলেন,‘ময়লা নদীর পাড়ে ফেলা হয়। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্যে পৌরসভা কাজ করেন। সত্যি কথা এটাই ওই মহিলা একজন ঝগড়াটে। যে কোন সময়, যে কারো সঙ্গে ঝগড়া বাধিয়ে ফেলেন। সেখানে আমি উপস্থিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই নারী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। তখন আমি একটু চিল্লাচিল্লি করেছি। এর বেশি কিছু না। ওই নারীর কোন অভিযোগই সঠিক নয়। ওই নারীর সঙ্গে প্রতিবেশীরাও ঠিকমতো কথাবার্তা বলেন না। কারণ যে কারো সঙ্গে ওই নারী ঝগড়া লাগিয়ে দেন।’
দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব বিশ্বাস বলেন,‘ওই নারীর একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। পুরো বিষয়টির তদন্ত শেষে প্রয়োজন অনুয়ায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





