Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

পুত্রবধূকে নিয়ে আবারও পতেঙ্গায় শ্বশুরের কাটা মাথার সন্ধানে পিবিআই

admin • 02 Oct 2023, 10:10 PM • পঠিত 2 বার
শেয়ার করুন:
পুত্রবধূকে নিয়ে আবারও পতেঙ্গায় শ্বশুরের কাটা মাথার সন্ধানে পিবিআই

ছেলেদের হাতে খুন হওয়ার এগারো দিন পাড় হলেও হতভাগ্য মো. হাসানের মাথা এখনো পাওয়া যায়নি। পুত্রবধূ আনারকলিকে নিয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো পতেঙ্গা সৈকতে চলেছে হাসানের মাথার খোঁজ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আজ সোমবার ভোর ৫টায় দ্বিতীয় দিনের মতো নিহত হাসানের ছোট ছেলে জাহাঙ্গীরের স্ত্রী আনারকলিকে নিয়ে আগের দিনের দেখানো স্থানে খোঁজা শুরু করেন। জোয়ারের কারণে বেশিক্ষণ অনুসন্ধান চালানো যায়নি।

ভোর ৫টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত অনুসন্ধান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইন্সপেক্টর মো. ইলিয়াস খাঁন।

তিনি বলেন, ‘গতকাল রবিবার প্রথমদিন পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে গিয়ে পাথরের ভেতর চলেছে হাসানের মাথার খোঁজ। আশপাশে পচা গন্ধ পেয়েছিলাম। কিন্তু জোয়ারের কারণে কাজ বন্ধ রেখে বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিলাম।

 

আজ সোমবার আবারও গিয়েছিলাম। সমস্যা একটাই জোয়ার, আর নতুন করে আবহাওয়া বিরূপ থাকায় আজ আর অপেক্ষা করিনি। তবে কাটা মাথা লুকানোর মানুষ যখন আমাদের হাতে তখন আশা করি একটা সমাধান পাওয়া যাবে। হত্যার পরদিন সকাল ৭টার দিকে আনারকলি ও তার স্বামী পতেঙ্গায় গিয়ে পাথরের ব্লকের ভেতরে মাথাটি ফেলে দেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।

ঘটনার পর পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তারকৃত হাসানের বড় সন্তান মোস্তাফিজুর জানান, কাটা মাখা ফেলার দায়িত্ব ছিল সফিকুর রহমান জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী আনারকলির। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ছোট ছেলে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করতে না পারলেও তার স্ত্রী আনারকলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

ইতিপূর্বে স্বীকারোক্তি দিতে গিয়ে মো. হাসানের বড় ছেলে মোস্তাফিজুর জানান, ২০ সেপ্টেম্বর পারিবারিক ও সাংসারিক নানান বিষয় নিয়ে বাবা, ছোট ভাইসহ আমরা তিনজন চট্টগ্রাম শহরে ছোট ভাইয়ের বাসায় আলোচনা করতে থাকি। একপর্যায়ে বাবার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। তখন আমার বাবা আমার গালে থাপ্পড় মারেন।

 

এতে আমার মাথা গরম হয়ে যায়। সহ্য করতে না পেরে দুই হাত দিয়ে বাবার গলা চেপে ধরি। এতে বাবা মারা যান। প্রথমে বস্তায় বাবার লাশ ঢুকিয়ে রুমের এক কোণায় রেখে রুমটি তালা মেরে বাইরে চলে আসি। এরপর ছোট বোনের জামাই ফোরকানকে কল দিয়ে একটি সিএনজি আনার কথা বলি। ওই সিএনজিতে করে মাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিই। এরপর বাবার শরীর টুকরো করা হয়।

পিবিআই জানায় পুত্রবধূর দেখানো স্থানে তল্লাশি চালিয়ে মাথার সন্ধান না পেলেও অন্য স্থান থেকে দেহ খণ্ডবিখণ্ড করার কাজে ব্যবহার করা ধারালো অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে।

 

মো. হাসান (৬১) স্ত্রী ও ছেলেদের হাতে খুন হন। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কাথারিয়ার বড়ইতলী গ্রামের সাহাব মিয়ার ছেলে। গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নগরীর পতেঙ্গা বোট ক্লাবের অদূরে ১২ নম্বর গেইটে একটি ট্রলিব্যাগ পাওয়া যায়। ট্রলিব্যাগে মানব শরীরের দুই হাত, দুই পাসহ আটটি খণ্ডাংশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পতেঙ্গা থানার এসআই আব্দুল কাদির বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

দুই দিন পর ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে নগরীর আকমল আলী সড়কের খালপাড়ে একটি খাল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় টেপে মোড়ানো শরীরের আরেকটি খণ্ড উদ্ধার করে পিবিআই।

 

আঙ্গুলের ছাপ ও নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে নিহত ব্যক্তির পরিচয়ও নিশ্চিত হয়ে গ্রেপ্তার করা হয় স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম (৫০) ও বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানকে (৩২)। তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বাবাকে খুনের বর্ণনা দেন বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান।

 

এদিকে, গত শুক্রবার ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় বাবার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ছোট ছেলে সফিকুর রহমানের স্ত্রী আনারকলিকে। তবে সফিকুর এখনো পলাতক রয়েছেন। শনিবার আনারকলিকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের নির্দেশে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই।

 

পিবিআই পরিদর্শক ইলিয়াস জানান, আনারকলি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন, তবে আলামত গোপনের সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত উপাদানের যোগানও তিনি দিয়েছেন বলে আমাদের কাছে স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী আমরা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধামাটি উদ্ধার করেছি।

 

আনারকলির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআই পরিদর্শক ইলিয়াস বলেন, ‘লাশ কাটার জন্য ধামা, প্লাস্টিকের ব্যাগ ও কসটেপ কিনে এনেছিলেন আনারকলি। কিন্তু সে দাবি করছেন, হাসানকে খুন এবং লাশ কেটে টুকরো করার ঘটনা তিনি দেখেননি।’

 

এদিকে, আনারকলির স্বামী সফিকুরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে জানিয়েছেন পিবিআই কর্মকর্তা ইলিয়াস।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।