জামালপুরের মেলান্দহে ধর্ষণের অভিযোগে হামিদুল ইসলাম (২২) নামে এক সৌদি আরব প্রবাসী যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মেলান্দহ পুলিশ।
তবে ছেলের পরিবারের দাবি ভিকটিম মেয়েকে সৌদি আরব থাকতেই মোবাইলের মাধ্যমে বিয়ে করেছিলো হামিদুল মেয়ের মা তার ছেলেকে ফাসিয়েছেন বলেও জানায় ছেলের পরিবার।
শনিবার (২১ জানুয়ারি) বিকালে উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের পুর্ব শ্যামপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে মেলান্দহ থানায় ধষর্ণের অভিযোগ মামলা দায়ের করেন ধর্ষনের শিকার ভিকটিমের মা।
রোববার (২২ জানুয়ারী) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত হামিদুলকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে ও ভিকটিমকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আটককৃত মো. হামিদুল ইসলাম ওই এলাকার মো. আব্দুল মালেকের ছেলে। তিনি সৌদি আরব প্রবাসী। গত ১৪ তারিখ সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে এসেছেন।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত হামিদুল সৌদি আরব থেকে মোবাইল ফোনে অভিযোগী কারীর মেয়েকে মাঝে মধ্যেই বিরক্ত করত। সম্প্রতি সে বাংলাদেশে এসেছেন। শনিবার (২১ জানুয়ারী) দুপুরে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে অভিযুক্ত হামিদুল তার নিজ বাড়ীতে নিয়ে গিয়ল ধর্ষন করে। পরে ভিকটিমের মা খবর পেয়ে ৯৯৯ এ কল দিলে পুলিশ ছেলের বাড়ি গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
তবে স্থানীয়রা বলছেন, পরিবারের অভাবের তাড়নায় তিন বছর আগে সৌদি আরব যায় হামিদুল। বিদেশ যাওয়ার কিছুদিন পরে মোবাইলে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পক গড়ে উঠে তাদের মাঝে। পরে তাদের মোবাইলের মাধ্যমে বিয়ে হয়। গত ১৪ তারিখ দেশে আসেন হামিদুল। তাকে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ভিকটিম ও অভিযোগকারী মা তাদের বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে অভিযোগকারী ঐ মেয়ের বাড়িতে দুই দিন থাকে হামিদুল। তাদের মাঝে মনমালিন্য হলে সেখান থেকে নিজ বাড়ীতে চলে আসেন হামিদুল। পরে মেয়ের পরিবারের সাথে সমঝোতার জন্য একটি বৈঠক হয়, তবে বৈঠকে কোনো সমঝোতা হয়নি।
অভিযুক্তের বাবা আ. মালেক জানান, আমার ছেলে বিদেশে থাকতে মোবাইলেই ঐ মেয়ের সাথে বিয়ে হয়েছিলো। গত শনিবার দুপুরে মেয়ে ও মেয়ের মা আমার বাড়িতে এসে মেয়েকে রেখে চলে যায়। তার কিছুক্ষণ পরেই বাড়িতে পুলিশ এনে আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে শ্যামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, হামিদুল সৌদি আরবে থাকতো ১৪ তারিখে দেশে এসেছে সে ঐ মেয়ের সাথে তার ফোনেই বিয়ে হয়েছিলো।
ধর্ষণ মামলার বাদীর সঙ্গে এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে সাংবাদিক পরিচয়ে কথা হলে তিনি কিছু না জানিয়ে কল কেটে দেন। পরবর্তীতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্ত হামিদুলের বাড়িতে গিয়ে ভিকটিম ও হামিদুলকে আটক করে থানায় আনে। এ ঘটনায় মেয়ের মা বাদী হয়ে রাতে ধর্ষন মামলা দায়ের করে। রোববার দুপুরে হামিদুল-কে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে ও মেয়েকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।





