Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

জেলা পরিষদের আম বাগানে যেতে ২৮ লাখ টাকার সেতু!

admin • 25 May 2024, 04:56 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
জেলা পরিষদের আম বাগানে যেতে ২৮ লাখ টাকার সেতু!

নিজেদের আম বাগানে যেতে বান্দরবান জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে সাড়ে ২৮ লাখ টাকার সেতু। তবে সেতুর দুই পাশেই নেই কাচা কিংবা পাকা কোনো সড়কের সংযোগ। এমনকি সেতু পেরিয়ে দেখার মতো জনবসতি বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও নেই। এরপরও মৃতপ্রায় একটি ছড়ার ওপর ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে সেতুটি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা গেছে।

জানা গেছে, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বান্দরবান সদর উপজেলার ক্যামলং এলাকায় জেলা পরিষদের ক্রয়কৃত জমির ওপর প্রায় সাড়ে ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ মিটার দৈর্ঘ্যের ফুট ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে সেতুটি নির্মাণ করে পার্বত্য জেলা পরিষদ। সংযোগ সড়ক ছাড়াই পতিত জমি আর মৃতপ্রায় ছড়ার মাঝখানে নির্মিত এই গার্ডার সেতুর দুই প্রান্তেই নেই কোনো সংযোগ সড়ক। শুধু তাই নয়, আশপাশের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যেও কোনো জনবসতি নেই।

ইতোমধ্যে সেতুটির ৯০ শতাংশ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। তবে দুই পাশে যাতায়াতের কোনো সংযোগ সড়ক না থাকায় এবং অপর পাশে কোনো গ্রাম না থাকায় সেতুটি কোনো কাজেই আসছে না। ক্যমলং পাড়ার বাসিন্দা থুইসিং প্রু বলেন, গতবছর থেকে দেখছি এখানে একটি ছোট খালের ওপর ব্রিজটি তৈরি করা হচ্ছে। প্রথমে আমরাও বুঝতে পারিনি কেন এই ব্রিজ হচ্ছে। কারণ, এদিকে তো কোনো বাড়ি-ঘর নেই। এদিকে শুধু একটি আম বাগান আছে। এখন দেখছি ব্রিজ হয়ে গেছে, কিন্তু ব্রিজ দিয়ে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই।

একই এলাকার বাসিন্দা ক্যহ্লা উ মারমা বলেন, ব্রিজের ওপারে জেলা পরিষদের একটি বাগান ও একটি লেক আছে। সেখানে যাওয়ার জন্যই মূলত ব্রিজটি বানানো হয়েছে। যদিও এটি কারও কোনো উপকারে আসবে না।

অনেকটা ক্ষোভ ঝেড়ে ক্যমলং পাড়ার জুম চাষি থুই নেই প্রু মারমা বলেন, আমাদের ক্যামলং ব্রিজ ভেঙে আছে গত বন্যা থেকে। সেখানে একটি ব্রিজ প্রয়োজন, সবার যাতায়াতে অসুবিধা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ব্রিজ হচ্ছে না। আর এখানে আম বাগানে যাওয়ার জন্য একটি ব্রিজ পড়ে আছে।

এ বিষয়ে কথা হলে পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ব্রিজের ওপারে একটি পর্যটন কেন্দ্রের পার্ক ও রিসোর্ট নির্মাণের জন্য পরিকল্পনা করে প্রাথমিকভাবে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। আগামীতে এখানে পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে।

পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা বলেন, জেলা পরিষদের অতিরিক্ত অর্থ না থাকার কারণে একসঙ্গে সব কাজ করার সুযোগ নেই। তাই কাজটি ধাপে ধাপে করা হচ্ছে। প্রথমে ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। এরপর সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করা হবে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।