জামালপুরে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হলো ব্যতিক্রমধর্মী বিড়াল প্রদর্শনী। শনিবার (২ আগস্ট) দুপুরে শহরের নিউ কলেজ রোড এলাকায় স্থানীয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে, আয়োজনে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অর্ধশতাধিক বিড়ালপ্রেমী তাদের প্রিয় বিড়াল নিয়ে অংশ নেন।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করে দেশী, পার্সিয়ান ও মিক্স ব্রিডসহ নানা প্রজাতির বিড়াল। প্রতিটি বিড়াল ছিল পরিচর্যাপূর্ণ ও সুসজ্জিত। বিড়ালদের রঙ, স্বভাব, সৌন্দর্য ও আচরণ দেখে বিমোহিত হন দর্শনার্থীরা। প্রদর্শনীকে ঘিরে পুরো এলাকাটি যেন পরিণত হয় এক উৎসবমুখর প্রাণিপ্রেমী মিলনমেলায়।
প্রদর্শনী শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী সকল বিড়ালের জন্য বিনামূল্যে ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়। এছাড়া উপস্থিত দর্শনার্থীদের মাঝে বিড়াল পালনের সঠিক পদ্ধতি ও স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনাও প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে আসা জান্নাতুল ইসলাম লিজা নামে এক বিড়ালপ্রেমী বলেন, ‘আমার বিড়ালটি বাসায় সবসময় একা থাকে। ওর সামাজিকতা বাড়ুক, সবাইকে দেখুক—এই ভাবনা থেকেই এখানে এনেছি। ওরও ভালো লাগছে, আমরাও দারুণ সময় কাটাচ্ছি।’
আরেক অংশগ্রহণকারী রিমা বলেন, ‘আমার কাছে বিড়াল শুধুই পোষা প্রাণি না—সে আমার সন্তানের মতো। ওকে আমি পরিবারের একজন সদস্য হিসেবেই দেখি। এমন আয়োজন আমাদের মতো প্রাণিপ্রেমীদের জন্য অনেক মূল্যবান।’
বাধন নামে এক অংশগ্রহণকারী বলেন, ‘জামালপুরে এই প্রথম এমন আয়োজন হয়েছে দেখে আমরা খুব খুশি। আমরা চাই, প্রতিবছরই এমন আয়োজন হোক। এতে প্রাণিপ্রেম ছড়িয়ে পড়বে সমাজে।’
প্রদর্শনীর মূল উদ্যোক্তা ও প্রাণিচিকিৎসক ডা. নাজমুন নাহার বলেন, ‘আমাদের সমাজে বিড়ালকে এখনো অনেকসময় নেতিবাচক চোখে দেখা হয়। আমরা চাই সেই ধ্যান-ধারণা পাল্টাতে। বিড়ালও একটি সংবেদনশীল প্রাণি—সেও যত্ন ও ভালোবাসা দাবি করে। সেই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ।’
তিনি আরও জানান, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে মানুষকে বিড়াল লালন-পালনে সচেতন ও দায়িত্বশীল করে তোলাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।





