Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে হারপিক খাইয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা,কিশোরসহ গ্রেপ্তার ২

admin • 24 Sep 2024, 03:06 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে হারপিক খাইয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা,কিশোরসহ গ্রেপ্তার ২

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে বিয়ের দাবিতে অনশনে থাকা এক অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে হারপিক খাইয়ে প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরসহ দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ।

 

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে নয়টায় সময় উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের কামাত পাড়া এলাকা থেকে ভুক্তভোগী ঐ তরুণীকে উদ্ধার করে সেনাবাহিনী। এসময় অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করা হয়।

 

ভুক্তভোগী ওই তরুণীর নাম আয়েশা সিদ্দিকা। সম্প্রতি বরিশাল থেকে বিয়ের দাবিতে দেবীগঞ্জে আসেন তিনি। অভিযুক্ত প্রেমিকের নাম আলামিন। সে উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের কামাতপাড়া এলাকার রইসুল ইসলামের ছেলে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় জানা যায়, কয়েক সপ্তাহ থেকে আয়েশা বিয়ের দাবি নিয়ে আলামিনের বাড়িতে অনশন শুরু করেন। দীর্ঘদিন থেকে আলামিনের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক। প্রেমের সম্পর্কের জেরে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তরুণী। এরপর থেকে আলামিন যোগাযোগ কমিয়ে দেয় ওই তরুণীর সাথে। বাধ্য হয়ে বরিশাল থেকে দেবীগঞ্জে আসেন আয়েশা। সোমবার আলামিনের ছোট ভাই জিল্লুর রহমান জোর করে আয়েশাকে হারপিক খাওয়ায়।

 

এই সময় তরুণী চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা জোরো হয়। কিন্তু কাউকে বাসায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। উপায়ন্তর না পেয়ে স্থানীয়রা সেনা ক্যাম্পে খবর দেয়। পরে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হান্নান এর নেতৃত্বে একটি টিম আয়েশাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

 

ভুক্তভোগী আয়েশা বলেন, আলামিন ঢাকায় জব করে‌। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সে আমাকে এখানে আনে। আমি এখানে আসার পর থেকেই তারা আমার পেটের সন্তানকে নষ্ট করার জন্য চেষ্টা করে আসছিল।

 

অভিযোগ অস্বীকার করে আটক কিশোর জিল্লুর রহমান বলেন, আমি মির্জাগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি। আমি হারপিক খাওয়াইনি। উনি (আয়েশা) টয়লেট পরিষ্কার করতে গিয়ে নিজে হারপিক খেয়েছে আমাদের বিপদে ফেলার জন্য।

 

অন্যদিকে, বিয়ের দাবিতে আসা তরুণীর ২০১৩ সালে একই এলাকার নাছির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির সাথে বিয়ে হয়। সে পরিবারে তাদের ৬ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। আয়েশার স্বামী নাছির মুঠোফোনে জানান, তাদের এখনো বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। আয়েশা তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছে বলে দাবি করলেও এখনো তা হাতে পায়নি নাছির।

 

এদিকে সোমবার রাতেই ভুক্তভোগী আয়েশা আক্তার প্রেমিক আলমিনকে প্রধান আসামি করে চার জনের নামে হত্যা চেষ্টা ও ধর্ষন মামলা দায়ের করেন‌। হত্যা চেষ্টা মামলায় জিল্লুর রহমান ও পারুল আক্তার নামে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

 

এবিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা বলেন, আয়েশা নামে এক তরুণীকে হারপিক খাইয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। বর্তমানে সেই তরুণী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। হত্যা চেষ্টা মামলায় দুজনকে আটক করা হয়েছে এবং বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।