Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

অধ‍্যক্ষকে সরিয়ে অযোগ্যকে দায়িত্ব দেয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত

admin • 25 Sep 2024, 08:11 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
অধ‍্যক্ষকে সরিয়ে অযোগ্যকে দায়িত্ব দেয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত

কুষ্টিয়াার খোকসা উপজেলার গোপগ্রাম এ. জেড ফাজিল মডেল মাদ্রাসার অধ‍্যক্ষকে অনিয়মের অভিযোগে সরিয়ে দেয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম চরম ব্যহত হচ্ছে। সরকার পরিবর্তনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অধ্যক্ষের চেয়াার দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানের উপাধাক্ষ ও কিছু সহকারী শিক্ষক।

 

তারা অফিস কক্ষে বসতে দিচ্ছেন না অধ্যক্ষ মাওলানা সাইদুল ইসলামকে। মাদ্রাসার সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অধ্যক্ষের দূর্নীতির অভিযোগ লিখিতভাবে জানিয়েছেন ঐ শিক্ষকরা। তারা অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবী করে ১৭টি অনিয়মের বিষয় উল্লেখ করেছেন। এব‍্যাপারে মাদরাসার অধ‍্যক্ষ সাইদুল ইসলাম জানান, আমি কোন অনিয়ম দূর্নীতি করিনি। পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তে সব কিছু করা হয়েছে। অধ্যক্ষও মাদ্রাসার সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

 

এই অধ্যক্ষ জানান, বিগত দিনে শিক্ষক প্রতিনিধি হয়ে যারা বিভিন্ন ভাউসারে স্বাক্ষর করেছেন, তারাই এখন অভিযোগ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, তদন্তের সময় সব প্রমানাদী দেখাবো। তারা আমাকে মাদরাসায় ঢুকতে দিচ্ছেনা, আমার কক্ষ জোর পূর্বক দখলে নিয়ে ভাংচুর এবং বিভিন্ন নথিপত্র লুট করেছেন। একটি মহল ভিন্নভাবে ফায়দা লুটের চেষ্টা করছে বলেও তিনি জানান। অধ্যক্ষ মাওলানা সাইদুল ইসলাম ২০ আগষ্ট ও ২৮ আগষ্ট ইউএনও বরাবর দু‘দফা অর্জিত ছুটির আবেদন করেছেন। এছাড়াও অর্জিত ছুটি এবং পবিত্র ওমরা পালনের জন্য ৭ সেপ্টেম্বর আরো একটি ছুটির আবেদন করেছেন। কিন্ত সভাপতি উএনও মহোদয় এই আবেদনের কোন ব্যবস্থা নেননি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খোকসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইরুফা সুলতানা বলেন, আমি সভাপতি হিসেবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে দায়িত্ব দিয়েছি। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সাইদুল ইসলাম পদত্যাগ করেননি বা বহিস্কার হননি, তাহলে কীভাবে একজন ভারপ্রাপ্ত হতে পারেন? এমন প্রশ্নের কোন উত্তর না দিলেও অধ্যক্ষ সাইদুল ইসলাম ছুটির আবেদন করেছেন, এবং সেটা ফাইল দেখে জানানো যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। অধ্যক্ষ সাইদুল ইসলাম মাদ্রাসায় যেতে অস্বস্তি বোধ করার জন্য উপাধাক্ষকে দায়ীত্ব পালন করতে মৌখিকভাবে বলা হয়েছিল।

এদিকে ২৪ সেপ্টেম্বর উপাধ্যক্ষ এইচ এম সোহরাব হোসেনকে লিখিতভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। যদিও এর দুদিন আগে ২৩ সেপ্টেম্বর ইসলামী আরবী বিশ^বিদ্যালয় একটি প্রজ্ঞাপনে দেশের সব মাদরাসার কমিটি বাতিল করে এডহক কমিটির জন্য আবেদন করার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে ইউএনও মহোদয় আর সভাপতির দায়িত্বে নেই।

 

তাহলে কীভাবে ভারপ্রাপ্তকে দায়িত্ব দিলেন জানতে চাইলে ইউএনও জানান, আমি এব্যাপারে কোন পরিপত্র বা আদেশ পত্র পায়নি, তাই রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্তকে দায়িত্ব দিয়েছি।

 

ব‍্যাপারে ভারপ্রাপ্ত অধ‍্যক্ষ এইচ এম সোহরাব হোসেনকে মোবাইলে না পেলেও সহকারী অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ২২ তারিখে ইউএনও মহোদয় দায়িত্ব দিয়েছেন। ব‍্যাক ডেটে রেজ‍্যুলেশনে স্বাক্ষরের বিষয়ে তিনি তার উপর চাপিয়ে দেন। সাইদুল ইসলামের দূনীর্তি পরিচালনা কমিটি কেন প্রশ্রয় দিয়েছে জানতে চাইলে এখানেও এই শিক্ষক কমিটির দায় বলে মতামত দেন।

 

তিনি আরো বলেন, আমি নিরিবিলি মানুষ, কখন কী বলি তা নিয়ে বিচলিত। তবে অনেকটা বাধ‍্য হয়েই অভিযোগপত্রে সবার শেষে সই করেছি। বহিস্কার না হওয়া ও পদত‍্যাগ না করা অধ‍্যক্ষের গত মাসের বেতন-ভাতা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করে বলেন, এক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রতিবাদ করা হচ্ছে।

 

শিক্ষক আমিনুল ইসলাম ও আব্দুর রব এব‍্যাপারে ভালো বলতে পারবেন, তারাই এগুলো করতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মাদ্রাসার নিয়মিত কাজে চরম ব‍্যঘাতের বিষয়টি তিনি স্বীকার করে এর দ্রুত সমাধানের প্রত‍্যাশা করেন। মাদ্রাসার তথ‍্য ও প্রযুক্তি শিক্ষক ঝর্না খাতুন জানান, শিক্ষক আব্দুর রহিমের পরামর্শে অধ‍্যক্ষ অপকর্ম করেছে।

 

তিনি বলেন, আব্দুর রহিমের ঐদ্বত‍্য অমার্জনীয়।শিক্ষক প্রতিনিধিদের কোন গুরুত্ব কমিটিতে ছিলনা বলে উল্লেখ করে ঝর্না খাতুন আরো জানান, রেজ‍্যুলেশনে বহু স্বাক্ষর জাল করার উস্তাদ আব্দুর রহিম। তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা অধ‍্যক্ষ সাইদুল ইসলামের পক্ষে থাকতে চাই, কিন্ত অনেকেই এটা মেনে নিচ্ছেনা বলে আমরা অসহায় বোধ করছি।

 

তিনি অনেক উন্নয়নও করেছেন মাদ্রাসার একথাও স্বীকার করেন এই শিক্ষিকা। মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির অবিভাবক সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন এবিষয়ে জানান, মাদ্রাসার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যঘাত হচ্ছে, অধ্যক্ষ সাইদুল ইসলামকে অন্যায়ভাবে ঢুকতে দেয়া হচ্ছেনা, কথিপয় শিক্ষকের পক্ষ থেকে হুমকী দেয়া হচ্ছে নানান ভাবে। তিনি বলেন, আমি কমিটির সদস্য হয়েও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়ার ব্যাপারে কিছুই জানিনা। ইউএনও সাহেব এই দায়িত্বটা দিয়েছেন বলে জেনেছি। অন্যান্য শিক্ষকের ব্যাপারে এই সদস্য জানান, অনেকেই ব্যবসা, ডাক্তারী

 

নিয়ে ব্যস্ত থাকে। দুপুর হলেই চলে যায় ইচ্ছে মত। এর প্রতিবাদ আমি বহুবার করেছি, অধ্যক্ষ সাইদুল ইসলামও এবিষয়ে ব্যবস্থার হুমকী দিতেন, ঐ ফাঁকিবাজ শিক্ষকরাই অধ্যক্ষের পিছনে এখন সুযোগে অভিযোগ এনেছেন।

 

তিনি মাদ্রাসার স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত ফেরাতে অভিযোগের তদন্ত দাবী করে আরো বলেন, অধ্যক্ষ আমার জানা মতে শিক্ষকদের স্বার্থের জন্যই হয় তো কিছু অনিয়ম করেছেন, যা বড় কিছু নয়। তিনি অনেক উন্নয়ন করেছেন। তাকে অধৈভাবে জোর পূর্বক অপসারণ না করে বিধিমোতাবেক কাজ করা জরুরী।

 

আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বর্তমানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এইচ এম সোহরাব হোসেন এই পদের জন্য অযোগ্য। মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, অবিভাবক ও শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসী এই দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রæত ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করেছেন।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।