কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মীম আক্তার (১৭) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে দাউদকান্দির ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হাসানপুর কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর সড়ক অবরোধ করেন ওই শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা। এতে ওই এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
নিহত মীম হাসানপুর শহীদ নজরুল ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং জেলার তিতাস উপজেলার লালপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে। এ ঘটনায় আহত মোটরসাইকেল চালক মো. শাফিনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী কলেজ শিক্ষার্থী মো. ইউসুফ জানান, কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী শাফিনের মোটরসাইকেলে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় একটি পিকআপ। এ সময় রাস্তা পার হচ্ছিল মীম। পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেলটি মীমের ওপর এসে পড়ে। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মীমকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার পরই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নেমে আসেন মীমের সহপাঠীরা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে সাত কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরে সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, দাউদকান্দি সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও থানার ওসি। দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর প্রশাসনের আশ্বাসে রাস্তা থেকে সরে দাঁড়ান শিক্ষার্থীরা।
কলেজের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোলাইমান বলেন, ‘মীম নাশতা খেয়ে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় মারা যায়। পরে শিক্ষার্থীরা ফুটওভার ব্রিজের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে।’
ওসি মো. শাহীনুল ইসলাম বলেন, ‘সড়ক পারাপারের সময় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত কলেজ শিক্ষার্থীর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পিকআপটি পালিয়ে গেছে। এখন সড়কে কোনো যানজট নেই।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরফাতুল আলম বলেন, ‘দুর্ঘটনা এবং সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাই। অবরোধকারী শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।’





