Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

হত্যার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে লাশ মাটিচাপা দেয় ঘাতকেরা

admin • 02 Apr 2023, 09:00 PM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
হত্যার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে লাশ মাটিচাপা দেয় ঘাতকেরা

কিশোরগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সোহান আহমেদ আলিফ (২৩) কে হত্যার পর লাশ মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে মামলার প্রধান আসামি মাসুদ (২৪)। রবিবার (২ এপ্রিল) বিকালে কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাশিদুল আমিন ১৬৪ ধারায় মাসুদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

 

জবানবন্দি গ্রহণ শেষে ঘাতক মাসুদকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। সে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নের উলুহাটি গ্রামের মফিজ মিয়ার ছেলে।

অন্যদিকে নিহত সোহান আহমেদ আলিফ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নের বেরুয়াইল কলাপাড়া গ্রামের শফিক আহমেদ বাচ্চুর ছেলে।

মামলা দায়েরের পর পরই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত)কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া এজাহারনামীয় দুই আসামি আনন্দ (১৭) ও হুমায়ুন কবির (২৮) কে গ্রেপ্তার করেন।

 

এছাড়া এই মামলার এজাহারনামীয় মূল আসামি মাসুদকে রবিবার (২ এপ্রিল) সকাল সোয়া ৬টার দিকে সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের ভাস্করখিলা গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামি মাসুদের দেখানো মতে হত্যার পূর্বে সেবনকৃত ঘুমের ট্যাবলেটের খালি পাতা, খালি কাশির সিরাপের বোতল, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লাঠি ও লাশ গুম করার জন্য গর্ত খোঁড়ার কাজে ব্যবহৃত দুটি কোদাল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

 

মাসুদকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে তার ভাগ্নেকে উপহার দেওয়ার জন্য একটি রূপার বিছা কিনেছিল। তার সন্দেহ সোহান আহমেদ আলিফ এই রূপার বিছাটি চুরি করেছিল।

 

এজন্যে সে সোহান আহমেদ আলিফকে ডেকে এনে সহযোগিদের নিয়ে রাতের আঁধারে হত্যার পর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তার লাশ মাটি চাপা দেয়।

 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোহান আহমেদ আলিফ গত ২০ মার্চ বিকালে গ্রামের হাইযুল এর দর্জির দোকানে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। দোকানে কাজ করা অবস্থায় বিকাল ৫টার দিকে পূর্ব পরিচিত এক বন্ধু ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়।

সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুজি করেও সোহান আহমেদ আলিফের কোন সন্ধান না পেয়ে গত ২৮ মার্চ মা মোছা. হাওয়া আক্তার কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় জিডি (নং-১৭৭৫) করেন।

 

জিডি’র তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. রফিকুল ইসলাম পরদিন ২৯ মার্চ সকালে জিডি তদন্তের জন্য নিখোঁজের বাড়িতে যান। এক পর্যায়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উলুহাটি গ্রামের গাউসুল আযম গোরস্থানের জন্য বরাদ্দকৃত জমির ভিটা থেকে দুর্গন্ধ আসলে সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি এসআই মো. রফিকুল ইসলাম থানার ওসি মোহাম্মাদ দাউদকে জানান।

 

এর প্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ, পিপিএম (বার),অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. আল-আমিন হোসাইন ও কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি মোহাম্মাদ দাউদ সেখানে ছুটে যান। সেখানে মাটি খুঁড়ে পচাঁ-অর্ধগলিত অবস্থায় সোহান আহমেদ আলিফের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

এ ঘটনায় নিহতের মা মোছা. হাওয়া আক্তার বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৬/৭ জনের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।