Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

স্বামীকে নারীর নেশা দূর করতে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে স্ত্রীর খোলা চিঠি

admin • 18 Aug 2024, 05:01 PM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
স্বামীকে নারীর নেশা দূর করতে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে স্ত্রীর খোলা চিঠি

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে টাকার সাথে বিদেশি মুদ্রাসহ পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনের খোলা চিঠি। তবে তার মধ্যে একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। আলাদা করে দৃষ্টি কেড়েছে স্বামীকে নারী নেশা থেকে দূরে রাখতে একজন স্ত্রীর একটি খোলা চিঠি।

 

শনিবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টায় পাগলা মসজিদে ৯টি দানবাক্স খোলা হয়। এসময় কিশোরগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তরিকুল ইসলাম, লে. কর্নেল রিয়াজুল করিম, কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

 

চিঠিতে স্বামীর নাম পরিচয় লিখে বিস্তারিত মনোবাসনা লিখে দেওয়া হয়। চিঠিতে লেখা হয়, ‘রোগীর নাম. আবু বক্কর সিদ্দিক, পিতা আব্দুল হাকিম, মাতা সরুফা খাতুন।

 

উদ্দেশ্য: আল্লাহ তা’আলা যেন তার নারী নেশা দূর করে দেন, সংসারে মন দেন, স্ত্রী ও সন্তানের দায়িত্ব সম্পূর্ণ রূপে পালন করেন, টাকা পয়সা যায় কামায় না কেন সব যেনো এনে স্ত্রীর তুলে দেন। শারীরিক ও মানসিকভাবে যেন সর্বদা সুস্থ থাকেন। জীবনের সকল গুনাহের জন্য যেন খোদার নিকট খাস দিলে তওবা করেন। দিন ও দেওয়ার জন্য খেদমত করতে পারেন। অভাব দূর করে রিজিক বৃদ্ধি করে দেন।’

 

মসজিদের দান থেকে পাওয়া এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট মসজিদসহ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়। এছাড়া করোনাকালে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামেজ হাসপাতালের ৮০ জন স্বেচ্ছাসেবককেও অনুদান দেওয়া হয়েছিল এ দানের টাকা থেকে। উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে ৯টি লোহার দানবাক্স রয়েছে।

 

৩ মাস ২৬ দিন পর শনিবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টায় এ দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে। এতে পাওয়া গেছে রেকর্ড ২৮ বস্তা টাকা। এখন চলছে গণনা। মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাসহ প্রায় ৩৫০ জনের একটি দল অংশ নিয়েছেন। এবার দানবাক্সগুলো খুলে রেকর্ড ২৮ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৩৫০ জনের একটি দল টাকা গণনার কাজে অংশ নিয়েছেন।দিনভর গণনা শেষে সেই টাকার পরিমাণ ৭ কোটি ২২ লাখ ১৩ হাজার ৪৬ টাকা।

 

তিন মাস ২৬ দিন পর দানবক্স খুলে এই টাকা পাওয়া গেল। এ ছাড়া দানবক্সে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কারও ছিল। তবে এবার টাকার পরিমাণ কম। এর আগে চলতি বছরের ২০ এপ্রিল পাগলা মসজিদের ৯টি দানবক্স খোলা হয়েছিল। তখন রেকর্ড ৭ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৭ টাকা পাওয়া যায়।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।