''আমার রক্তে বাঁচলে প্রান, করবো না কেন স্বেচ্ছায় রক্তদান ‘ স্লোগান কে ধারন করে সংগঠিত অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী জেলার অন্যতম মানবসেবামূলক সংগঠন “সেচ্ছায় রক্তদান জামালপুর” তাদের গর্বিত পথচলার ৫ বছর পূর্তি ও ৬ষ্ঠ বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপন করেছে একটি বিশেষ দিন।
আজ মঙ্গলবার (১৩ মে) সকালে জামালপুর সদর উপজেলার বামুন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কেক কাটা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি স্মরণীয় করে রাখা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা আমির উদ্দীন। তিনি বলেন, “যে সমাজে মানুষ মানুষকে রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচায়, সে সমাজ কখনো পিছিয়ে যেতে পারে না। তরুণরা এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, এটা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, “শুধু পাঠ্যশিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও সামাজিক সচেতনতাও জরুরি। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সেই মানবিক শিক্ষার বাস্তব উদাহরণ।”
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিজয় হাসান বলেন, আমরা চাই জামালপুরের প্রতিটি মানুষ রক্তদানে এগিয়ে আসুক। আমাদের স্বপ্ন—রক্তের অভাবে যেন কেউ প্রাণ না হারায়। পাশাপাশি আমরা পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সচেতনতামূলক কাজেও সক্রিয় থাকবো।”
সাংগঠনিক সম্পাদক বিদ্যুৎ মিয়া বলেন, “রক্তদান শুধু একটি কাজ নয়, এটি একটি মানবিক দায়িত্ব। আমাদের সংগঠনের শতাধিক সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবক নিয়মিত এই মহৎ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য রবিন, হাসান মাহমুদ, শাওন শিশিরসহ অনেকে। তারা সবাই আশা প্রকাশ করেন, “স্বেচ্ছায় রক্তদান জামালপুর” ভবিষ্যতে আরও বেশি সমাজসেবামূলক কাজে সম্পৃক্ত হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবে।
এদিন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার প্রতীকী প্রতিশ্রুতি হিসেবে বিদ্যালয় চত্বরে বেশ কিছু ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবাই একসাথে মানবতার কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পতাকা আরও উঁচুতে তুলে ধরার কথা জানান।
এ নিয়ে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাজু বলেন, ২০২০ সালের ১৩ মে থেকে আমাদের যাত্রা শুরু। করোনা কালীন সময় থেকে আমরা আমাদের সংগঠন স্বেচ্ছায় রক্তদানে জামালপুর নামে আত্ম প্রকাশ করি। তখন থেকেই মুমূর্ষু রোগীর জন্য হাসপাতালে ছুটে চলা। অসহায় গরীব রোগীর জন্য ব্লাড মেনেজ করা, থ্যালাসেমিয়া রোগীর জন্য ব্লাড দেওয়া ছাড়াও সংগঠনটি বিভিন্ন সমাজিক কাজের সাথে সম্পৃক্ত। আমাদের নিয়মিত রক্তদাতা ১০০+ যারা জেলা শহর থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জরুরি মুহূর্তে রক্তদান করে থাকে।





