ফেনীর পরশুরামে উম্মে সালমা লামিয়া (৭) নামের এক শিশুকে হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তা মা আয়েশা ও সৎ মা রেহেনাকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরের দিকে পরশুরাম পৌরসভার বাঁশপাদুয়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে লামিয়ার মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ পৃথক স্থান থেকে মা ও সৎমাকে আটক করেছে।
নিহত লামিয়া পরশুরামের কলাবাগান এলাকার নুর নবীর প্রথম সংসারের দ্বিতীয় মেয়ে। তিনি একটি বেসরকারী সংস্থার গাড়ি চালক। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি বাঁশপদুয়ার পশ্চিমপাড়া গ্রামে এয়ার আহাম্মদের বাসায় দ্বিতীয় স্ত্রী রেহানাকে নিয়ে থাকতেন। পুলিশের ধারণা, দাম্পত্য কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
এলাকাবাসী জানান, মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে হেলমেট পরা দুই যুবক নুরুন্নবীর ভাড়া বাসায় গিয়ে নিজেদের পল্লী বিদ্যুতের লোক দাবি করে দরজা খুলতে বলেন। এ সময় ঘরে থাকা তার দুই শিশু দরজা খুলে দিলে যুবকরা ঘরে ঢুকে লামিয়ার হাত-মুখ-পা বেঁধে ফেলেন। এ সময় তার বড় বোন ফাতেমা আক্তার নিহা (১২) পাশের ঘরে ঢুকে দরজা আটকে দেয়। লামিয়াকে হত্যার পর ওই দুই যুবক চলে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
নুরুন্নবীর সাবেক স্ত্রী এবং নিহত লামিয়ার মা আয়েশা আক্তার অভিযোগ করেন, নুরুন্নবীর সঙ্গে চার বছর আগে তাঁর বিচ্ছেদ হয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রীর লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাঁর সন্তানকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় তিনি নুরুন্নবীর দ্বিতীয় স্ত্রী রেহেনাকে দায়ী করেন। তবে নুরুন্নবীর অভিযোগ, তাঁর প্রথম স্ত্রী আয়েশা পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাদাত হোসেন খান বলেন, ‘দাম্পত্য কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নুরুন্নবীর সাবেক স্ত্রী আয়েশা ও বর্তমান স্ত্রী রেহেনাকে আটক করা হয়েছে।





