লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় কয়েকজনকে দেশীয় ধারাল অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টায় উপজেলার রামগতি বাজার এলাকায় বিএনপির সাবেক এমপি এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মীর আক্তার হোসেন বাচ্চুর অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
আহতরা হলেন, চরগাজী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, যুবদল নেতা নুরুল আমিন নোমান, মো. ইসমাইল, মাহবুবুর রহমান নয়ন, ছাত্রদল নেতা ফরহাদ হোসেন, মো. হৃদয়, বিএনপি কর্মী মো. জুয়েল ও আরিফ হোসেন প্রমুখ।
এদের মধ্যে গুরুতর আহত সাইফুলকে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
জানা যায়, রামগতির চরগাজী ইউনিয়নের বানী ভবানী রায় কামেশ্বরী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে থাকা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে যায় নেতাকর্মীরা। এ সময় সাবেক এমপি নিজান ও বিএনপি নেতা বাচ্চুর সমর্থকরা বিভক্ত হয়ে পড়ে। পরে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া নিয়ে উভয় পক্ষের বাদানুবাদের একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
অভিযুক্ত বাচ্চু চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি।
রামগতি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জামাল হোসেন বলেন, টানা দুইবার বাচ্চু আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে জাতীয় নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন। এতে তাকে নতুন কমিটিতে রাখা হয়নি। এ কারণেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তিনি আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন বাচ্চু বলেন, আমি উপজেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি কিন্তু বর্তমান কমিটিতে আমাকে সদস্য হিসেবেও রাখা হয়নি। আশরাফ উদ্দিন নিজানের অনুসারী না হওয়ায় আমাকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সকালে প্রভাত ফেরিতে গেলে আমার লোকজনের সঙ্গে নিজানের কর্মীদের হাতাহাতি হয়। আমি উপস্থিত হয়ে সবাইকে বুঝিয়ে নিয়ে এসেছি। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে দেইনি।
রামগতি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, ঘটনাটি শুনেছি, কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





