ফিন্যান্স বিভাগের এক ছাত্রী-শিক্ষক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই সাংবাদিক ও দুই সমন্বয়কের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৭ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই ছাত্রী এ অভিযোগ করেন।
অভিযুক্তরা হলেন - গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ও খবরের কাগজের প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম সুমন, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি সাজ্জাদ হোসেন সজীব, ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) শিক্ষার্থী ও সাবেক সমন্বয়ক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, এবং আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব তাহমিদ।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রীটি অভিযোগ করেন, ১১ মে বিকেলে স্যারের চেম্বারে পড়া বুঝতে গেলে হঠাৎ কয়েকজন সেখানে ঢুকে পড়ে। তাদের একজন শরীরে হাত দিলে ওড়না পড়ে যায় এবং সেই মুহূর্তে একজন ভিডিও করতে থাকে। পরিস্থিতির ভয় পেয়ে তিনি টেবিলের নিচে লুকিয়ে পড়েন। পরে গামছা গায়ে দিয়ে রুম থেকে বের হয়ে যান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রথম দিন এক লাখ টাকা এটিএম বুথ থেকে পরিশোধ করেন এবং পরদিন আরও দুই লাখ টাকা দেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত দুই সাংবাদিক একই দিন পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তারা জানান, ১১ মে সন্ধ্যায় এক সোর্সের মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পেরে প্রক্টরের অনুমতি নিয়ে সেখানে যান। রুমে ঢুকে লাইট বন্ধ অবস্থায় টেবিলের নিচে ওই ছাত্রীকে লুকিয়ে থাকতে দেখেন। তখন ছাত্রীটি অনুরোধ করেন যেন ভিডিও বা সংবাদ প্রকাশ না করা হয়, না হলে তিনি আত্মহত্যার হুমকি দেন।
সাংবাদিকরা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি এবং ভিডিওটি তাদের অজ্ঞাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রসঙ্গত, ১১ মে বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অ্যাকাডেমিক ভবনের ৩০৭ নম্বর কক্ষে ওই ছাত্রীকে নিয়ে প্রবেশ করেন মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ। এরপর ১৪ মে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তোলপাড় চলছে।





