কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি বাজারে রমজান মাসে ক্যারম খেলা ও টেলিভিশন চালানো বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সামনে আসে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা বাজার পরিদর্শনে গেলে তার সঙ্গে ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার অধীন পাটিকাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মসিউল আজম। সে সময় তিনি সাদা পোশাকে ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বাজারের একটি চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে মসিউল আজম কড়া ভাষায় বলছেন, ওই যে ক্যারম খেলতেছে। আমি বন্ধ করে দিছি কি না? কেন চলল? সেদিন বাজার কমিটিকে ডেকে বলে গেছি না, তারাবির এক মাস কোনো ক্যারাম, কোনো টিভি চলবে না। কেন চলল? এরপর তাকে ক্যারাম বোর্ডের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়।
ভিডিওতে পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজাকে বলতে শোনা যায়, রমজান মাস, ইবাদতের মাস। যাই করবেন, নামাজের সময় যেন এইসব না করেন।
ঘটনার পরদিন শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে ওই বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কেউ কেউ দোকান খুললেও শাটার আংশিক নামানো ছিল। একটি চায়ের দোকানে টেলিভিশন চালু থাকলেও সেখানে ক্যারম খেলা বন্ধ দেখা যায়। ওই দোকানের মালিক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, আমার এখানে কয়েকজন নিয়মিত বসেন। তারা একটু টিভি দেখেন।
এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কাশেম মেম্বার সেখানে এসে বলেন, হঠাৎ করে এভাবে সব বন্ধ করে দেওয়া ঠিক নয়। তরুণদের কিছু বিনোদনও দরকার। চেয়ারম্যান-মেম্বাররাও মাঝে মধ্যে খেলতে আসেন। তবে টাকার বিনিময়ে ক্যারম খেলা ভালো নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা মাঝে মধ্যেই মসজিদে ওয়াজ করে থাকেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পাটিকাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মসিউল আজম বলেন, এটি ইসলামের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়। কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ওপর মহলের নির্দেশেই আমি এ কথা বলেছি।
তবে তার এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা। তিনি জানান, এ ধরনের কোনো নির্দেশনা অধস্তনদের দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) জসিম উদ্দিন বলেন, এটি কোনো পুলিশি নির্দেশনা নয়। রোজার দিনে চায়ের দোকান খোলা থাকবে কি না, তা আইনগত বিষয় নয়; এটি ব্যক্তিগত অনুভূতির বিষয়। এ কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই।





