Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর মতামত

ভূ-রাজনীতি,চাঁদা ও আধিপত্য দ্বন্দ্বে অতিষ্ট পার্বত্য জনগোষ্ঠী

admin • 30 Aug 2023, 04:08 PM • পঠিত 2 বার
শেয়ার করুন:
ভূ-রাজনীতি,চাঁদা ও আধিপত্য দ্বন্দ্বে অতিষ্ট পার্বত্য জনগোষ্ঠী

ভূ-রাজনীতি, চাঁদা ও আধিপত্য দ্বন্দ্বে অতিষ্ট পার্বত্য জনগোষ্ঠী। যার মাঝে সব চাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ পার্বত্য অঞ্চলে বসবাস করা ৫২% বাঙ্গালি জনগোষ্ঠী। এ অঞ্চলে বর্তমানে সংঘাত, সংঘর্ষ, বাঙ্গালী নিধন চেষ্টা ও অস্ত্র মজুদের মহোৎসব চলছে,বর্তমানে যা অতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে। ৩ পার্বত্য জেলায় বর্তমান পরি স্থিতি অনেক ভয়াবহ।

 

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে ক্ষতবিক্ষত এ অঞ্চলকে নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে ওঠছে। অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে সে অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত হয়ে পড়ার আশংকা তৈরি হতে পারে। একই সাথে পর্যটন ব্যবসা কমে যাওয়া এবং সীমান্ত সড়কের যেসব কাজ চলমান ছিল, সেগুলোও স্থবির হয়ে যেতে পারে আশংকা করছেন অনেকে।

 

সম্প্রতি দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতা নিয়ে জেএসএস এর অতি উৎসাহ ও গোপন তৎপরতা লক্ষণীয়। উপজাতি থেকে আদিবাসি হওয়ার হাস্যকর দাবি সে ষড়যন্ত্রকে আরো বেশি স্পষ্ট করছে। নৃতত্ত্ববিদদের সকল গবেষণায় প্রমাণিত ও স্বীকৃত পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত উপজাতিবৃন্দ আদিবাসী নয়। তারপরও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ক্রীড়নক হয়ে কাজ করা কিছু বামপন্থী নেতার বক্তব্য-বিবৃতি এ অঞ্চলকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন করার অপপ্রয়াস বলে আমি মনে করি।

 

বর্তমান জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক হওয়া সত্ত্বেও পার্বত্য বাঙ্গালী জনগোষ্ঠী অধিকার বঞ্চিত প্রায় সর্বক্ষেত্রে। শিক্ষা, চাকরি সহ সকল দিক দিয়ে পিছিয়ে আছে স্থানীয় বাঙ্গালিলি জনগোষ্ঠী। পার্বত্য ৩ জেলার জেলা পরিষদ গুলো প্রতিনিয়ত বৈষম্য করছে বলে দাবি স্থানীয় বাঙ্গালি প্রতিনিধিদের। চাকরির ক্ষেত্রে ৫২% বাঙ্গালি জনগোষ্ঠীর ১০% ও চাকরি হয় না। রাজার সনদ বাতিল চেয়ে স্থানীয় বাঙ্গালিগণ বহুবার আন্দোলন করলেও টনক নড়েনি সরকারের, যা খুব হতাশা সৃষ্টি করেছে বাঙ্গালিদের মাঝে। এই ছাড়াও সন্তুলারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি ও বিদ্রোহী ইউপিডিএফ এর অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে প্রায় প্রতিদিনই নিরীহ লোকজন খুন হচ্ছে।

 

সম্প্রতি কেএনএফ এর আইইডি বিষ্ফোরণে এবং গুলিতে প্রাণ হারাচ্ছে সেনাবাহিনী। উপজাতীয় সন্ত্রাসীগোষ্ঠী জেএসএস,ইউপিডিএফ,কেএনএফ,এমএলপি এ যাবত প্রায় ৩০ হাজারের'ও বেশি নিরীহ বাঙ্গালীকে হত্যা করেছে। কয়েক হাজার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজিতে প্রতিনিয়ত সেখানকার ব্যবসায়ীদের অতিষ্ঠ করে তুলছে। এক সূত্রে যানা যায় বছরে ৭০০ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করছে সশস্ত্র সংঠন গুলো।

 

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠীর সমান অধিকার নিশ্চিত করতে পারলে বিরাজমান সমস্যার সমাধান সম্ভব। সরকারের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্ধেক বাঙ্গালী জনসাধারণ সর্বক্ষেত্রে চরমভাবে পিছিয়ে আছে। বছরের পর বছর ভূমিবিরোধ জিইয়ে রেখে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা ফায়দা লুটছে, ভূমি মন্ত্রনালয় এর দায় এড়াতে পারে না।

 

তানভীর হোসেন ইমন,পৌর সভাপতি,পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ, বান্দরবান পার্বত্য জেলা

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।