Tuesday, 20 October 2026
শিরোনাম
মেলান্দহে তারাকান্দি সমাজ কল্যাণ সংঘের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি কোনো ভুল করিনি কিন্তু, ভুল হয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করছি, বললেন ইশরাক হোসেন। কুমারখালীতে অগ্নিকাণ্ডে ১২ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত সব মাদ্রাসায় করতে হবে কমিটি, নির্দেশনা আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদী থেকে অজ্ঞাত বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার আমার দলীয় কোনো নেতাকর্মী চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়, এটা গর্বের বিষয়: আইনমন্ত্রী ঘরে বসে প্রিন্টার মেশিনে টাকা বানাচ্ছিলো যুবক গাড়ি থেকে নিজ হাতে সরকারি লোগো খুললেন ইশরাক গোপালগঞ্জে মহাষ্টমী ও সন্ধি পূজা অনুষ্ঠিত আ.লীগকে ফেরানোর চেষ্টা করলে জুলাই শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে :প্রধানমন্ত্রী
এক্সক্লসিভ

বেতন ছাড়া স্টেশন পরিষ্কার করা বুবির কবর জিয়ারত করলেন ১৩ স্বজন

• • পঠিত 9 বার
শেয়ার করুন:
বেতন ছাড়া স্টেশন পরিষ্কার করা বুবির কবর জিয়ারত করলেন ১৩ স্বজন

নরসিংদীর রায়পুরার মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশনে বিনা বেতনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা বাক্প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা বুবি বেগম ওরফে ওয়াহিদা বেগমের (৭০) কবর জিয়ারত করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

 

রবিবার (১২ জুলাই) বিকেলে স্টেশনসংলগ্ন নুরপুর কবরস্থানে তাঁর কবর জিয়ারতের সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। দীর্ঘ ২৫ বছর পর নিখোঁজ এই স্বজনের সন্ধান পেলেন তাঁরা, তবে জীবিত নয়, পেলেন একটি নিথর কবর। এদিন ভোরে বগুড়ার গাবতলী থেকে মাইক্রোবাসে করে রওনা দিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় মেথিকান্দা স্টেশনে এসে পৌঁছান ওয়াহিদার তিন বাষ্প্রতিবন্ধী ভাইবোনসহ পরিবারের মোট ১৩ জন সদস্য।

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার ঘোন সাগাটিয়া গ্রামের মেয়ে ওয়াহিদা বেগম ২৫ বছর আগে পরিবারের সাথে অভিমান করে বাড়ি ছাড়েন। স্বামী ও একমাত্র সন্তানকে হারানোর পর থেকেই তিনি বিপর্যস্ত ছিলেন। বাড়ি ছেড়ে তিনি মেথিকান্দা স্টেশনে আশ্রয় নেন। গত দুই যুগ ধরে বিনা বেতনে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও শৌচাগার পরিষ্কার করতেন তিনি। স্থানীয়রা ভালোবেসে তাঁকে যে সামান্য টাকা দিতেন, তা তিনি সযতনে জমিয়ে রাখতেন।

এই জমানো টাকাই তাঁর কাল হলো। গত ৪ জুলাই রাতে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর কক্ষে ঢুকে টাকা ছিনিয়ে নিতে তাঁকে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম করে। তিন দিন পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

ফেসবুকের মাধ্যমে খবর পেয়ে ছুটে আসা পরিবারের সদস্যরা জানান, ওয়াহিদার বাবা-মাসহ পরিবারের মোট ২০ জন সদস্য বাক্প্রতিবন্ধী। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর তাঁরা একসময় আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন।

 

ওয়াহিদার ছোট বোনের জামাতা সৈকত ইসলাম জানান, মৃত্যুর পর টাকার লোভে তাঁরা ছুটে আসেননি। ওয়াহিদার জমানো কোনো টাকা থাকলে তা যেন স্থানীয় এতিমখানা বা মসজিদে দান করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ ২৫ বছর পর অন্তত তাঁর কবরটি দেখতে পেরেছেন, এতেই তাঁদের পরম শান্তি।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।