Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

বৃষ্টিতে ভিজে হেটে ১০ ইউনিয়নবাসীর স্বপ্নের দ্বার খুললেন সাংসদ জর্জ

admin • 28 Jun 2023, 07:33 PM • পঠিত 2 বার
শেয়ার করুন:
বৃষ্টিতে ভিজে হেটে ১০ ইউনিয়নবাসীর স্বপ্নের দ্বার খুললেন সাংসদ জর্জ

গড়াই নদীর তীর ঘেঁষে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার অবস্থান। নদীটি উপজেলাকে দুই ভাগে ভাগ করে রেখেছে। ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টি নদীর এপারে (উত্তর) আর ৫টি ওপারে (দক্ষিণ)। যদুবয়রা, পান্টি, চাঁদপুর, বাগুলাট ও চাপড়া নামের ৫টি ইউনিয়নের মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নদীটি।

তবে দীর্ঘ শত বছরের সেই বাঁধা, ভাগাভাগি বিভেদ ও অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। বুধবার (২৮ জুন) সকাল সোয়া ১১ টার দিকে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে বৃষ্টিতে ভিজে পাঁয়ে হেটে ' শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতু খুলে দিয়েছেন কুষ্টিয়া -০৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার সেলিম আলতাফ জর্জ।

উপজেলাবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার, ভোগান্তি কমাতে ও জনস্বার্থে সংসদ সদস্য বৃষ্টি উপেক্ষা করে সেতুর দক্ষিণপাশ থেকে পাঁয়ে হেটে উত্তরপাশে এসে সেতুর দ্বার খুলেছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুর উদ্বোধন হবে আরও পরে বলে জানা গেছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আক্তার, কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামছুজ্জামান অরুন ও সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন খান তারেক, উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুর রহিম, পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামিউর রহমান সুমন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হারুন অর রশিদ, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, উৎসুক জনতা, সাংবাদিকবৃন্দ সহ প্রমূখ।

এবিষয়ে সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার সেলিম আলতাফ জর্জ বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চলমান উন্নয়নের অংশ হিসেবে কুমারখালীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ হয়েছে। এজন্য তিনি দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে জনস্বার্থে সেতুটি খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে মানুষের ভোগান্তি কমবে, দুপাড়ের মানুষের মেলবন্ধন হবে। ব্যবসা - বাণিজ্য, কৃষিকাজ, শিক্ষা, তাঁতশিল্পের ব্যাপক সম্প্রসারণের পাশাপাশি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন হবে। ঘটবে অর্থনৈতিক বিপ্লব।

জানা গেছে, স্বাধীনতার ৫২ বছর পরে হলেও গড়াই নদীর ওপর কুমারখালীর তেবাড়িয়া - যদুবয়রা পয়েন্টে ৬৫০ মিটার সেতু ও ৫৫০ মিটার সংযোগ নির্মাণ করছেন বর্তমান সরকার। যার প্রস্তাবিত নামকরণ করা হয়েছে শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতু। চুক্তিমূল্য ব্যয় প্রায় ৮৯ কোটি ৯১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৫৯১ টাকা। ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল নির্মাণ কাজ শুরু করেন নেশনটেক কমিনিকেশন লিমিটেড ও রানা বিল্ডার্স লিমিটেড (যৌথভাবে)।

অপরদিকে সেতুর দ্বার খুলতেই স্বপ্নের জাল বুনতে শুরু করেছেন কৃষক, ব্যবসায়ী, তাঁতি, শিক্ষার্থী, চাকুরীজীবী, শ্রমিকসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ। ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপণা বিরাজ করছে তাঁদের মধ্যে। দুপাড়ের বাসিন্দাদের মেলবন্ধনসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা।

এছাড়াও কুমারখালীর সাথে পার্শ্ববর্তি ঝিনাইদহ, মাগুরা, মেহেরপুরসহ আশপাশের জেলার মানুষ সহজেই যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবে। ঘটবে অর্থনৈতিক বিপ্লব।

এবিষয়ে কৃষক শহীদ বলেন, যেখানে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট লাগত। সেখানে তিনি সকালে পাঁচ-দশ মিনিটেই শহরে গিয়েছেন।

প্রায় ৭০ বছর বয়সের লালনবাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল বারিক দর্জি বলেন, ছোটকাল থেকে তিনি শুনে আসছেন সেতু হবে সেতু হবে। কিন্তু এতোদিন পরে তাঁর শেষ বয়সে সেতু নির্মাণ হলো। এতে তিনি খুব খুশি। মনের আনন্দে সকালেই সেতুর ওপর হাটাহাটি করেছেন তিনি।

কুমারখালী কাপুড়িয়া হাটের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা বলেন, দিনবদলের স্বপ্ন দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের ব্যবসা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। আর্থিকভাবে লাভবান হবেন তাঁরা।

কুষ্টিয়া এলজিইডি'র প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, `সেতুর পুরিপূর্ণ কাজ শেষ হতে এখনো সময় লাগবে। জনস্বার্থে সেতুটি খুলে দেওয়া হয়েছে। সেতুও চলবে, কাজও চলবে।'

পৌরসভার মেয়র ও সামছুজ্জামান অরুন বলেন, 'এযেন উপজেলাবাসীর হাজার বছরের কষ্ট দুর হলো। মানুষের পক্ষ্য থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।'

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।