আল - আমিন, পঞ্চগড় :
পঞ্চগড়ে নিখোঁজের পর টাবুল বর্মন (৪৮) নামের ১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে পুলিশ । পরকীয়ার কারণে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় পুলিশ সুপার এস এম সিরাজুল হুদা এ তথ্য জানিয়েছেন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন টাবুল। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) তার পরিবারের লোকজন পঞ্চগড় সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর পুলিশ অভিযানে নেমে টাবুলের প্রতিবেশী মন্টু বর্মনের স্ত্রী ললিতা বর্মনের (৪০) সঙ্গে তার পরকীয়ার তথ্য পায়। পরে ললিতা, তার মেয়ে মনিকা রানী বর্মন (২০) ও মেয়েজামাই প্রভাত চন্দ্র রায়কে (৩৩) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়। ললিতার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের ডোলোপাড়া এলাকার আমবাগানের একটি ড্রেনে খুঁড়ে পুলিশ টাবুলের মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় টাবুলকে হত্যায় ব্যবহৃত কুড়ালটিও জব্দ করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ললিতা জানান, টাবুলের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের পরকীয়ার সম্পর্ক। তবে সম্প্রতি তিনি টাবুলের সঙ্গে আর সম্পর্ক না রাখার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু টাবুল তাকে সম্পর্ক চালিয়ে যেতে বাধ্য করছিলেন। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ললিতা টাবুলকে হত্যার জন্য ৩০ হাজার টাকায় সদর উপজেলার টুনিরহাট এলাকার রফিকুল ইসলাম ও ডলোপাড়া এলাকার মোন্তাজ আলীকে ভাড়া করেন।
বুধবার কৌশলে ললিতা টাবুলকে মেয়ে জামাইয়ের বাড়ি হাড়িভাসার জয়গুণ মার্কেটে ডেকে নেন। সেখান থেকে ললিতা ও তার মেয়েজামাই প্রভাত মোটরসাইকেলে করে টাবুলকে নিয়ে যান ডোলোপাড়ার আম বাগানে। সেখানে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে রফিকুল ও মোন্তাজ ধারাল কুড়াল দিয়ে টাবুলকে আঘাত করেন। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করে ড্রেনের মধ্যে মাটিচাপা দেন। এ ঘটনায় ললিতা ও তার জামাতা প্রভাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ।





