দোতলা দুটি কোয়ার্টার ভবনে ৩২টি কক্ষ। ভেঙে গেছে অধিকাংশ জানালার কাচ। খুলে গেছে দরজার কাঠ। খসে পড়েছে দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা। কোথাও ধরেছে ফাটল। নোংরা-আবর্জনায় ভরা জরাজীর্ণ কোয়ার্টার ভবন এখন মাদকসেবীর আস্তানা। এগুলো ব্যবহার না হওয়ায় সরকার বছরে হারাচ্ছে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার রাজস্ব। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় এমন জীর্ণ অবস্থা কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারের।
চিকিৎসক, সেবিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে অনিয়ম হওয়ায় কোয়ার্টার বসবাসের অনুপযোগী হয়ে গেছে। এ ছাড়া বাইরের বাসার তুলনায় এগুলোর ভাড়া গুনতে হয় অনেক বেশি। সে জন্য কেউ সরকারি কোয়ার্টারে থাকেন না। চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. সাকিবের ভাষ্য, কোয়ার্টারের মান ভালো নয়। খরচও অনেক বেশি। তা ছাড়া থাকার বাধ্যবাধকতা নেই। তাই কেউ থাকেন না। সংস্কার করে বাইরের ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয় করা গেলে অনেকে থাকতে পারেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসক, সেবিকা ও কর্মচারীদের জন্য ২০০৩-০৪ অর্থবছরে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি দোতলা কোয়ার্টার ভবন নির্মাণ করে গণপূর্ত বিভাগ। বেতন কাঠামো নীতিমালা অনুযায়ী বাড়ি ভাড়ার ভাতা কাটার বিনিময়ে বাস করতে পারেন তারা। তবে এলাকার অন্য বাসাবাড়ির তুলনায় কোয়ার্টারের ভাড়া বেশি।
যদিও আগে কয়েকজন চিকিৎসক থেকেছেন। মানসম্মত পরিবেশ না থাকায় গত পাঁচ বছরে এগুলো ব্যবহার হয়নি। এতে জরাজীর্ণ ও ভূতুড়ে হয়ে গেছে ভবন দুটি। সে সুযোগে অপরাধীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে স্থানটি।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনের গেটে সড়ক ঘেঁষে রয়েছে দুটি কোয়ার্টার ভবন। এর চারপাশে আগাছা জন্মে জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। অধিকাংশ জানালার কাচ ও কাঠের দরজা ভাঙা। খসে পড়েছে দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা। লোহায় ধরেছে জং। দেয়ালে জন্মেছে আগাছা। পুরো জায়গায় সুনসান নীরবতা। পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ।
পাঁচ-ছয় বছর আগে কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্স কোয়ার্টারে থাকলেও এখন খালি বলে জানান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব শাখার কর্মকর্তা আলফাজ উদ্দিন। তিনি বলেন, কোয়ার্টার ব্যবহার হলে সরকারের রাজস্ব বাড়ত। তিনি কোয়ার্টারে থাকলে মূল বেতন থেকে প্রায় ১২ হাজার টাকা কাটা যেত। কিন্তু এর থেকে অনেক কম টাকায় বাইরে ভালো বাসা ভাড়া পাওয়া যায়।
পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এস এম রফিকসহ নাম প্রকাশ না করা শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন পড়ে আছে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কোয়ার্টার ভবন দুটি। কেউ সেখানে যায় না। সুযোগ পেয়ে বখাটেরা মাদকের আস্তানা বানিয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রাশেদ আল মামুন বলেন, ভবন নিম্নমানের এবং খরচ বেশি হওয়ায় কেউ থাকেন না। তবে পুনঃসংস্কারের মাধ্যমে যুগোপযোগী করে ভাড়া সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।





