আইতো (রাত) হু হু করে ঘরে বাতাস ঢোকে। খুব জাড় (ঠান্ড) লাগে তখন। খুব কষ্ট হয় আইতো। পুরান কম্বল দিয়া অনেক কষ্টে শীত পার করি। এই কম্বলে ভালো হইলো। আইতে এহন জাড় কম করবে। নয়া কম্বল পেয়ে খুব উপকার হইল আল্লাহ যেন ছাত্রগোরে (ছাত্রদের) ভালো করে।’
জামালপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে কম্বল পেয়ে এভাবেই অনূভুতি প্রকাশ করেন ৬৫ বছরের স্বামীহারা বৃদ্ধা সালেহা বেগম। এদিন তার মত প্রায় সাত'শ অসহায় শীর্তাতদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। কম্বল পেলে তাদের মুখে হাসি ফুটে উঠে।
তীব্র শীতে মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে আকাশ। সারাদিনেও রোদের আলোর দেখা মেলেনি জামালপুরে।
যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর তীড়ে অবস্থিত এ জেলা। ফলে অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে তুলনামূলকভাবে শীতের প্রভাব যেমনি বাড়ছে তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অসহায়, দুস্থ, গরিব ও ছিন্নমূল মানুষের কষ্ট। কনকনে ঠান্ডায় কাপছে সাধারণ মানুষ। স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। এসব শীতার্ত মানুষদের কষ্ট লাঘবে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
রবিবার (২ ফেব্রুয়ারী) সকালে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার কেপি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রত্যন্ত এলাকার প্রায় সাত'শ অসহায়-গরিব শীর্তাতদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির ও জাতীয় বন্যা ও পূর্নবাসন কমিটির সদস্য মো. লুৎফর রহমান।
এ সময় কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক লুৎফর রহমান বলেন,‘স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার থাকতে অসহায় দুস্থরা তেমন উপকার পেত না। সরকারি সব বরাদ্দ স্বৈরাচারী দোসররা তাদের পকেটেই ঢুকিয়েছে। প্রচন্ড এই শীতে কষ্টে থাকা শীতার্ত মানুষকে একটু উষ্ণতা দিতে আমাদের এ আয়োজন।
প্রথম দিনে প্রায় সাত'শ অসহায় মানুষের হাতে কম্বল দিতে পেরেছি। শীতার্ত মানুষের পাশে দাড়াতে পেরে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করি। এভাবেই যেন সব সময় গরীব অসহায় মানুষের পাশে দাড়াতে পারি সেজন্য সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করি।’
এসময় জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি মো. হিফজুর রহমান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন জামালপুরের যুগ্ম আহ্বায়ক আফরিন জান্নাত আখি, রাশেদুল ইসলাম সহ অন্যানরা কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।





