admin
• 19 Apr 2025, 11:38 PM
• পঠিত 2 বার
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে জাহিদুল ইসলাম (২৩) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জামালপুর ডিবির ওসি মো. নাজমুস সাকিব।
এর আগে শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈরের টাওয়ার মার্কেট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আট মাস আগে ভিকটিম শিক্ষার্থী তার চাচাত ভাই জাহিদুল ইসলামের বাড়িতে গেলে সে প্রথমবার জোরপূর্বক ধর্ষণের শিকার হয়। এরপর দীর্ঘদিন ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। বিষয়টি লজ্জা ও ভয়ে গোপন রাখে মেয়েটি। পরবর্তীতে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
সাত মাস অতিবাহিত হওয়ার পর ভিকটিম বিষয়টি অভিযুক্তকে জানালে সে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেয় এবং তার বোন সুবর্ণা (১৭) কে দিয়ে ওষুধসহ ভিকটিমের বাড়িতে পাঠায়। সুবর্ণা কৌশলে সেই ওষুধ খাইয়ে দিলে ১১ এপ্রিল সকালে ভিকটিম একটি মৃত পুত্রসন্তান প্রসব করে। খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে এবং ভিকটিমকে গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে সে এখনও মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।
এ ঘটনায় পরদিন ১২ এপ্রিল সরিষাবাড়ী থানায় শিক্ষার্থীর বাবা সোহেল মিয়া বাদী হয়ে অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলামসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর জামালপুর জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট অভিযানে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ও সোর্সের সহায়তায় ডিবি পুলিশ ১৩ ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ বিষয়ে জামালপুর পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, “এই জঘন্য ঘটনা আমাদের সমাজে অপরাধ প্রতিরোধে একজোট হওয়ার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। জেলা পুলিশের পেশাদারিত্ব, প্রযুক্তিনির্ভরতা এবং জনগণের সহযোগিতায় মাত্র সাত দিনের মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে