Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

জেলা আ. লীগ নেতার বাড়িতে আ. লীগ নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ

admin • 22 Mar 2024, 10:48 AM • পঠিত 2 বার
শেয়ার করুন:
জেলা আ. লীগ নেতার বাড়িতে আ. লীগ নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ

কুষ্টিয়ার খোকসায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন নামে এক নেতাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। আর এই অভিযোগ কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে। তিনি কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও।

 

এদিকে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যা কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নেতা খোকসা থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।

 

লিখিত অভিযোগপত্রে আলমগীর হোসেন জানান, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সদর উদ্দিন খানের ভাই রহিম খান চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন। নির্বাচনে তার পক্ষে কাজ করতে বলেন সদর উদ্দিন খান। একই সঙ্গে বর্তমান চেয়ারম্যান ও খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আক্তারের পক্ষে নির্বাচন করতে নিষেধ করেন। নিষেধ না মানায় তাকে তুলে নিয়ে তার বাড়িতে আটকে রেখে অমানসিক নির্যাতন চালানো হয়।

 

যদিও এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান। তার দাবী, এ ধরনের ঘটনা তার জানা নেই। ওই সময় তিনি বাড়িতেও ছিলেন না।

 

জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার আলমগীর হোসেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ কুমারখালী খোকসা আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিম আলতাফ জর্জের পক্ষে নির্বাচন করেন। ওই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রউফের কাছে পরাজিত হন সেলিম আলতাফ জর্জ।

 

নির্যাতনের শিকার আলমগীর হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার শোমসপুর এলাকায় এক ব্যক্তির ধানের চাতালের সামনে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেল এসে তার সামনে দাঁড়িয়ে বলে, ‘বড় কাকা (সদর উদ্দিন খান) ডাকছে, যেতে হবে।’ একপর্যায়ে রহিম খানের ছেলে রবিনসহ চারজন তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে একটি মোটরসাইকেলের মধ্যে বসিয়ে তুলে নিয়ে যান। অন্য যুবক তার মোটরসাইকেলটি নিয়ে আসেন।

 

আলমগীর হোসেন আরও বলেন, প্রায় দেড় কিলোমিটার দুরে শোমসপুর গ্রামে সদর উদ্দিন কানের বাড়ির দোতলার একটি ঘরে তাকে আটকে রাখা হয়। এসময় সদর উদ্দিন খান লাঠি হাতে করে এসে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে তার ভাইয়ের পক্ষে কাজ করার জন্য হুমকি দেন। এর পর শুরু হয় নির্যাতন। লাঠি দিয়ে বেশ কয়েকটি আঘাত করেন।

 

একপর্যায়ে বিছানায় থাকা একটা অস্ত্র হাতে নেন সদর উদ্দিন খান। এভাবে ২০ থেকে ২৫ মিনিট চলে নির্যাতন। শারীরিক নির্যাতনই নয়, একপর্যায়ে কুরআন শরিফ নিয়ে শপথ করান এবং কাউকে এ বিষয়ে বলতে নিষেধ করেন। এ সময় একটি ফোন এলে দরজা খুলে দেয়া হয়। পরে তার ভাইয়ের ছেলে রবিনের মাধ্যমে মোটরসাইকেলে করে ঠিক যে স্থান থেকে তুলে নেয়া হয় সেখানেই রেখে আসা হয়।

এদিকে ঘটনার পর মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত আওয়ামী লীগ নেতা খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরে যান বলে জানান হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহিনা খানম।

 

এ বিষয়ে খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল আক্তার বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান নিজে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছেন আলমগীর হোসেনকে। মুখের মধ্যে পিস্তল ঢুকিয়ে হত্যারও হুমকি দেন। খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আননূর যায়েদ বলেন, একটা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।