Tuesday, 20 October 2026
শিরোনাম
মেলান্দহে নাটমন্দির পরিদর্শনে এমপি বাবুল, সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান ফেসবুকে বন্ধ হচ্ছে যে ফিচার আওয়ামী লীগ পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চোরের দল :স্পিকার আসামে দুই দিনে উচ্ছেদ ১১০০ বাঙালি মুসলিম পরিবার, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ১০ মসজিদ পূর্বাচলে অতিরিক্ত ডিআইজির ফ্ল্যাটে ডিবির অভিযান, মাদকসহ আটক ৮৫ গৃহবন্দী অং সান সু চিকে বই ও চিঠি পাঠালেন রাজা তৃতীয় চার্লস ৬ দিন বন্ধ থাকবে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের অনলাইন কার্যক্রম রংপুরে রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী ২ ফ্যান ও ১ ফ্রিজে এক মাসের বিদ্যুৎ বিল ১ লাখ ১০ হাজার টাকা! রাজধানীতে পাকিস্তানি নাগরিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
এক্সক্লসিভ

জামালপুরে ৪৭৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

• • পঠিত 12 বার
শেয়ার করুন:
জামালপুরে ৪৭৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

জামালপুরে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৪৭৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষকের ২৯৮টি পদ শূন্য থাকায় জেলার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় তৈরি হয়েছে চরম সংকট। অনেক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও অল্প শিক্ষক দিয়ে কোনোভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এতে শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবক ও সচেতন মহলে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জানা গেছে, জেলার মোট এক হাজার ১৬৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বসহ প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন ৬৯১ জন। ফলে প্রায় ৪১ শতাংশ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়ের বেশিরভাগই পরিচালিত হচ্ছে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া সিনিয়র সহকারী শিক্ষকদের মাধ্যমে।

 

এ ছাড়া জামালপুর সদর উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের ১০১টি, ইসলামপুরে ৬৯টি, দেওয়ানগঞ্জে ৪৫টি, বকশীগঞ্জে ৪৪টি, মেলান্দহে ৬১টি, মাদারগঞ্জে ৮৭টি এবং সরিষাবাড়ীতে ৬৬টি পদ শূন্য রয়েছে।

 

সরেজমিনে শহরের বেলটিয়া পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে ১৯৯৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। তিন দশক ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলছে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম। বিদ্যালয়ে ছয়জন শিক্ষকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন। শিক্ষক সংকটের কারণে একাধিক শ্রেণির পাঠদান সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষকদের। কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও।

 

একই চিত্র দেখা গেছে শহরের খুপীবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চালাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তীর্থ সত্যপীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। এসব বিদ্যালয়েও দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে পাঠদান, সবকিছুতেই তৈরি হচ্ছে জটিলতা।

 

বেলটিয়া পুলিশ লাইন্স বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুরাফিয়া আক্তার বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক সময় একাধিক শ্রেণির ক্লাস নিতে হয়। অফিসিয়াল কাজগুলোও আমাদেরই করতে হয়। যার কারণে বাচ্চারা ঠিকমতো ক্লাস নেওয়া যাচ্ছে না, তারা সঠিক কাঙ্ক্ষিত মনোযোগ পাচ্ছে না।

 

খুপীবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মান্নান চৌধুরী বলেন, ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রশাসনিক কাজ ও শ্রেণি পাঠদান একসঙ্গে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

 

বকশীগঞ্জ উপজেলার জিনিয়া উমর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিউলি বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। একজন প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক সব কাজ আমাদেরকেই সামলাতে হচ্ছে। অফিসের নথিপত্র সংরক্ষণ, বিভিন্ন সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ নানা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারছি না। একদিকে অফিসের কাজের চাপ, অন্যদিকে নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার দায়িত্ব—যেটি আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

২০১৪ সালে প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা ঘোষণার পর বিভাগীয় পদোন্নতি কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। আগে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির মাধ্যমে জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়া হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় শূন্য পদ বাড়তেই থাকে। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে জেলার ২০১ জন সহকারী শিক্ষককে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। নতুন নিয়োগ ও নিয়মিত পদোন্নতি না থাকায় সংকট এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে।

 

সচেতন নাগরিক কমিটি (সুজন) জামালপুর জেলা কমিটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী বলেন, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির ব্যবস্থা না করলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী সংকট আরও বাড়বে। এতে অভিভাবকরা সন্তানদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিচ্ছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। যদি দ্রুত এই সমস্যা সমাধান না হলে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিতে অনীহা দেখাবেন।

 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আহসান এশিয়া পোস্টকে বলেন, শিক্ষক নিয়োগ এটি মূলত বিসিএসের মাধ্যমে নয়, পিএসসি পরীক্ষার মাধ্যমে হয়। তবে যারা সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত তাদের বিষয়ে শিগগিরই একটি সিদ্ধান্ত আসবে। এ সিদ্ধান্ত এলে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ও প্রধান শিক্ষকদের শূন্য পদ আর থাকবে না।

 

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন জেলায় শিক্ষকদের একটি অভ্যন্তরীণ মামলা রয়েছে। এ মামলাটি শেষ হলে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে। তবে মামলার বিষয়ে তিনিও স্পষ্টভাবে জানেন না বলে জানান।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।