Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

জামালপুরে মামলা করায় বাদীকে হুমকির অভিযোগ, আসামীদের গ্রেপ্তাদের দাবি

admin • 08 Jan 2025, 09:22 PM • পঠিত 2 বার
শেয়ার করুন:
জামালপুরে মামলা করায় বাদীকে হুমকির অভিযোগ, আসামীদের গ্রেপ্তাদের দাবি

জামালপুরের মেলান্দহে মামলার দুই সপ্তাহ পরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে ১৪ জন আসামী। আর বাদীকে দিচ্ছেন হুমকি। এই আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার বাদী।

 

বুধবার (০৮ জানুয়ারি) দুপুরে জামালপুর শহরের একটি রেস্টুরেন্টে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মামলার বাদী সামসুন্নাহার সুমাইয়া। তিনি মেলান্দহ উপজেলার তেঘরিয়া সিরিঘাট গ্রামের মৃত শামসুল হক আকন্দের সন্তান।

 

এসময় সুমাইয়া বলেন- গত ২১ অক্টোবর ২০২৪ সালে তেঘরিয়া সিরিঘাট এলাকায় আমেরিকা প্রবাসী হাফিজ রওশন কাজল ও তার ভাই হাফিজ রায়হান সাদার নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্ত্রসহ গিয়ে আমার ভাই সায়েদুল ইসলাম শিপনের নিকট ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমার ভাই অস্বীকার করিলে তারা আমাদের বাড়ি-ঘর, গেইট, টিনের বেড়া ভাংচুর করে এবং টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটপাট করে নিয়ে যায়। এছাড়া আমার ভাইকে ঘরের ভেতরে আটকিয়ে রাখে এবং সাদার ছোট ভাই মৃত হাফিজ মওলা ভুট্টোর ছেলে ফাহাদ হাফিজ দিগন্ত গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

 

সুমাইয়া আরো বলেন- সে সময় সেনাবাহিনী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিষয়টি জানালে তারা ঘটনাস্থলে যায়। তবে তারা সেখানে উপস্থিত হলে হাফিজ রায়হান সাদা নিজেকে জামালপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি পরিচয় দিয়ে সত্য আড়াল করে এটি নিজেদের একান্ত ব্যাপার বলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিজে বিষয়টি দেখার কথা বলে তাদেরকে চলে যেতে বলায় তারা চলে যায়। এরপর বিকেল ৩ টার দিকে লিগ্যাল এইড আদালতের কর্মকর্তারা তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে, তারা দেখেন ইতিমধ্যে ঘর-বাড়ি, গেট, বাউন্ডারি ভাংচুরসহ অনেকগুলো গাছ কাটা হয়েছে। সেগুলোকে তারা ভিডিও এবং ছবির মাধ্যমে সংগ্রহে করে নিয়ে আসেন। এরপর ১৯ নভেম্বর আমরা আদালতে স্বত্ব ঘোষনার মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত এক সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর আদেশ প্রদান করেন।

 

সুমাইয়া বলেন- গত ২০ ডিসেম্বরে হাফিজ রায়হান সাদা এলাকায় লোকজনের কাছে ঘোষণা দিয়ে অপরিচিত মহিলার মাধ্যমে থানায় মানব পাচারের একটি মামলা দায়ের করায়। এরপর তার প্রভাব খাটিয়ে আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে আসছে। অত:পর লিগ্যাল এইড আদালত মামলার মাধ্যমে বিরোধ নি:স্পত্তি না করতে পারায় আমাদেরকে গত ২২ ডিসেম্বরে উপযুক্ত আদালতে মামলা দায়ের করার প্রতিবেদন দিলে গত ২৪ ডিসেম্বর আমরা আদালতে হাফিজ রায়হান সাদাসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ্য করে এবং অজ্ঞাত নামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করার পর আদালত ২৪ ঘন্টার ভেতর মামলাটি থানায় অন্তর্ভূক্ত করার নির্দেশ দেন। এই মামলায় আসামীদের গ্রেপ্তারের সুযোগ থাকলেও তা করছে না পুলিশ।

 

এসব বিষয়ে অভিযুক্ত ও মামলার প্রধান আসামী হাফিজ রায়হান সাদা মুঠোফোনে বলেন-‘ যারা অভিযোগ করছে, তারা আওয়ামী লীগের পদধারী। তারা এতোদিন মানুষের জায়গা জমি দখল করেছে। ৫ আগস্টের পরে এখন সবাই যার যার জমি বুঝে নিচ্ছে। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে কেনো এমন অভিযোগ করেছে তা আমার বোধগম্য নয়। তাদের জ্বালায় আমরা এতোদিন বাড়িতে ঢুকতে পারিনি। তারা অনেকদিন আগে আমাদের বাড়িতে হামলা করেছিলো। এখন আমাদের নামে মিথ্যা মামলা করেছে। আমি এর প্রতিবাদ জানায়।'

 

তবে গ্রেপ্তারের বিষয়ে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান বলেন- এই মামলাটি তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে এই মামলায় কোনো পরোয়ানা জারি হয়নি।

 

সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশগ্রহন করেন।

সাকিব/ মিরর
মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।